Advertisement
E-Paper

চোখের সামনে সন্তান শেষ হয়ে যাচ্ছে, এর থেকে বড় কষ্ট কী হতে পারে বাবা-মায়ের! কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হল: হরীশ রানার বাবা

অসুস্থ ছেলের হয়ে ২০২৪ সালে পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানান হরীশের বাবা। প্রায় দু’বছর ধরে আইনি লড়াই চলে। বুধবার হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৪
শয্যাশায়ী হরীশের দেখাশোনায় ব্যস্ত তাঁর বাবা অশোক। ছবি: সংগৃহীত।

শয্যাশায়ী হরীশের দেখাশোনায় ব্যস্ত তাঁর বাবা অশোক। ছবি: সংগৃহীত।

চোখের সামনে ছেলেকে প্রতি দিন, প্রতি মুহূর্তে কষ্ট পেতে দেখেছেন। সন্তানের কষ্ট চোখে দেখা যাচ্ছিল না। চোখের সামনে তিলে তিলে ছেলেকে শেষ হতে দেখা— বাবা-মায়ের কাছে এর থেকে বড় যন্ত্রণা আর কী হতে পারে! কথাগুলি সাংবাদমাধ্যমের কাছে বলছিলেন হরীশ রানার বাবা অশোক রানা। কথাগুলি বলার সময় কান্না লুকোনোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অশোক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের যুবক হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুর রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের মধ্যে এই প্রথম। সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হরীশের বাবা বলেন, ‘‘এই রায়ের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ঈশ্বরের অশেষ কৃপা, বিচারপতিরা আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা যা চেয়েছিলাম, সেই রায়ই দিয়েছেন তাঁরা। চিকিৎসকদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছিলাম।’’

গাজ়িয়াবাদের বাড়িতে বসে অশোক আরও বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত হরীশ এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। মৃত্যুই একমাত্র ওকে নিষ্কৃতি দিতে পারে। গত ১৩ বছর ধরে তিলে তিলে যে কষ্ট ভোগ করছে, সেই কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পাক আমার সন্তান।’’ তবে বাবা-মায়ের কাছে এই সিদ্ধান্তও যে কত বড় একটা আঘাত, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন হরীশের বাবা। তিনি আরও জানান, হরীশ খুব প্রতিভাবান ছাত্র ছিলেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিলেন। ২০১৩ সালের ২০ অগস্ট রাখিবন্ধন উৎসবের দিন তাঁদের মেসেজ করেছিলেন। তার পরই খবর আসে হরীশ পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘যখন আমরা হাসপাতালে পৌঁছোই, জানতে পারি হরীশের মস্তিষ্কে গুরুতর চোট। ওর পায়ের নীচটা নীল হয়ে গিয়েছিল।’’

পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক করছিলেন হরীশ। পাঁচতলা থেকে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই শয্যাশায়ী তিনি। মস্তিষ্কে চোটের ফলে হরীশ পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (পিভিএস) বা স্থায়ী অচেতন অবস্থায় চলে যান। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে টিউবের মাধ্যমে তাঁর শরীরে পুষ্টিকর পদার্থ চালান করা শুরু হয়। গত ১৩ বছর ধরে এই পদ্ধতিই হরীশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বুধবার তাদের রায়ে বলে, এই চিকিৎসা হরীশের বেঁচে থাকাকে দীর্ঘায়িত করা ছাড়া আর কোনও উপকার করছে না। তাই হরীশের বাবা-মা, প্রাথমিক এবং পরবর্তী মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, হরীশকে কৃত্রিম পুষ্টি দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হোক। সেটাই তাঁর পক্ষে সবচেয়ে ভাল হবে।

অসুস্থ ছেলের হয়ে ২০২৪ সালে প্রথম বার দিল্লি হাই কোর্টে পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানান হরীশের বাবা। তার পর থেকে আইনি লড়াই শুরু হয়। প্রতি দিন চোখের সামনে নিজের ছেলেকে এ ভাবে পড়ে থাকতে দেখছেন বৃদ্ধ দম্পতি। ছেলের যন্ত্রণা, বলতে না-পারা কষ্ট, এক লহমায় বুঝে নিতে পারেন তাঁরা। কিন্তু সেই যন্ত্রণা থেকে রেহাই দেওয়ার কোনও পথই খুঁজে পাচ্ছিলেন না ওই দম্পতি। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে করতে ক্রমশ নিঃস্ব হয়ে পড়ছিলেন। প্রায় দু’বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পর বুধবার হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy