খলিস্তানি নেতা অমৃতপাল সিংহের স্ত্রী কিরণদীপ কৌরকে অমৃতসর বিমানবন্দরে আটক করল পঞ্জাব পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, লন্ডনের বিমান ধরার জন্য বিমানবন্দরে এসেছিলেন কিরণ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিমান ধরার আগেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের মধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
পঞ্জাব পুলিশ সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল অমৃতপালের স্ত্রী কিরণদীপ আদতে ব্রিটিশ নাগরিক। কিরণদীপ ‘বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল’ (বিকেআই) সংগঠনেরও সদস্য ছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অমৃতপালের সংগঠন ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’-কে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন কিরণদীপ এবং বব্বর খালসা সংগঠন। ইতিমধ্যেই কিরণদীপের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। ব্রিটিশ সরকার যে সব সংগঠনকে জঙ্গি সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে বব্বর খালসারও নাম রয়েছে। ব্রিটেনের এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকেআইয়ের সদস্য কিরণদীপকে খলিস্তানের সমর্থনে একাধিক র্যালি এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। ২০২০ সালে সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা এবং বিকেআইয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করার অভিযোগে কিরণদীপকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্রিটেনের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, খলিস্তান সমর্থক পরমজিৎ সিংহ পম্মার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগ আছে কিরণদীপের।
আরও পড়ুন:
ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে কিরণদীপের সঙ্গে বিয়ে হয় অমৃতপালের। বিয়ে হয়েছিল অমৃতপালের পৈতৃক গ্রাম অমৃতসরের জল্লুপুর খেড়ায়। কিরণদীপের পরিবার থাকত পঞ্জাবের জালন্ধরে। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’-র পাঁচ সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২০১৬ সাল থেকে ৪০ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে। এক তদন্তকারী আধিকারিক দাবি করেছেন, তাঁদের হাতে এমন কিছু মামলা এসেছে যেখানে দেখা গিয়েছে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনে মৃতদের পরিবারের নামে টাকা তুলে সেই টাকা সংগঠনের কাজে লাগিয়েছেন অমৃতপাল।
নানা চেষ্টা করেও এখনও অমৃতপালের সন্ধান পাননি তদন্তকারীরা। ১৮ মার্চ থেকে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ‘ওয়ারিশ পঞ্জাব দে’ সংগঠনের খলিস্তানপন্থী এই নেতা। তাঁর খোঁজে পঞ্জাবের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি, রাজস্থানেও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নেমে ১০ এপ্রিল অমৃতপালের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী পপ্পলপ্রীত সিংহকে গ্রেফতার করেছিল পঞ্জাব পুলিশ। কিছু দিন পরে অমৃতপালের দুই আশ্রয়দাতা রাজদীপ সিংহ এবং সর্বজিৎ সিংহকেও গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বার বার পোশাক বদলে, স্থান বদলে, কখনও বা গোপন স্থান থেকে ভিডিয়ো-বার্তা দিয়ে অনুগামীদের উজ্জীবিত করলেও অমৃতপালের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পঞ্জাব প্রশাসন। তাই তাঁকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।