Advertisement
E-Paper

১৬টি নথি দিয়েও প্রমাণ করা গেল না নাগরিকত্ব! ভোটার তালিকা থেকে জমির দলিল, সবই খারিজ গুয়াহাটী হাই কোর্টে

আমিনুল হক নামের ওই ব্যক্তিকে গুয়াহাটির ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৭:১৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড আদালতে জমা দিয়েছিলেন। বাবা-দাদুর নথি, জমির নথিও নিয়ে গিয়েছিলেন। কোনওটিতেই কাজ হয়নি। ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মামলায় পর পর ১৬টি নথি খারিজ করে দিয়েছে গুয়াহাটী হাই কোর্ট। বিচারপতি জানিয়েছেন, ১৯৬৪ সালের বিদেশি নাগরিক আইনের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, জমা দেওয়া কোনও নথিই তাঁর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

আমিনুল হক নামের ওই ব্যক্তিকে গুয়াহাটির ফরেনার্স ট্রাইবুনাল ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। দাবি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা ভারতে আছেন। ভারতেরই নাগরিক। বক্তব্যের সপক্ষে মামলাকারী মোট ১৬টি নথি আদালতে জমা দেন। তার মধ্যে ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ছাড়াও রয়েছে ১৯৭৩ সালের জমি কেনার নথি, স্কুলের শংসাপত্র। ১৯৬৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভোটার তালিকাতেও তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের নাম ছিল। সেই তালিকা প্রমাণ হিসাবে আদালতে জমা দিয়েছিলেন মামলাকারী। দেওয়া হয়েছে ১৯৫১ সালের ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজ়েন্‌সের কপি। অসমে ২০১৯ সালের এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে এখনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। কে ভারতীয় নাগরিক, কে নন, তার প্রামাণ্য নথি হওয়ার কথা এই এনআরসি।

ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মামলাকারী তাঁর বাবাকেও আদালতে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, মৌখিক প্রমাণ এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। মামলাকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল পরিযায়ী শ্রমিক। কিছু কিছু নথিতে বাবা এবং দাদুর নামের বানানে গোলমাল থাকায় তাঁকে বিদেশি বলে ঘোষণা করে দেয় ট্রাইবুনাল। গুয়াহাটী হাই কোর্টের বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি শামিমা জাহান গত ৩০ জুন এই মামলায় রায় দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি কারও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তা প্রমাণের দায়িত্বও সেই ব্যক্তিকেই নিতে হবে।

বিভিন্ন নথিতে মামলাকারীর বাবা এবং দাদুর নামের বিবিধ বানান রয়েছে বলে অভিযোগ। এখনও পর্যন্ত বাবার চার ধরনের নাম উঠে এসেছে— মহিরুদ্দিন শেখ, মাহরুদ্দিন শেখ, মহিরুদ্দিন এবং মহির উদ্দীন। আদালতের বক্তব্য, এই ধরনের অসঙ্গতিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু বাবা এবং দাদুর সঙ্গে সঠিক যোগসূত্র প্রমাণ করতে মামলাকারী ব্যর্থ হয়েছেন। বিচারপতি বলেন, ‘‘নথিপত্র অনুযায়ী, মহিরুদ্দিনের বাবা হিসাবে পাসান আলির নাম রয়েছে। কিন্তু মহিরুদ্দিন, পাসান এবং আবেদনকারী আমিনুল ডোবাকুরা, ঘুঘুডোবা এবং হাসডোবা গ্রামের ভোটার তালিকায় ধারাবাহিক ভাবে একত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন— তা প্রমাণিত নয়।’’ আদালত জানিয়েছে, ভোটার তালিকার ভিত্তিতে মামলাকারী এই ফাঁক পূরণের চেষ্টা করছেন এবং সেই অনুযায়ী যুক্তি সাজিয়েছেন। তাঁদের পরিবার যে ডোবাকুরা থেকে ঘুঘুডোবা হয়ে হাসডোবায় স্থানান্তরিত হয়েছিল, তার সপক্ষে নির্দিষ্ট নথি নেই। এ ছাড়া, যে স্কুলের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে, তা ২০১৭ সালে হাসডোবা আঞ্চলিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। অথচ, মামলাকারী ১৯৯৯ সালে স্কুল পাশ করেছেন। তাই ওই নথিও গ্রহণযোগ্য হয়নি।

Citizenship Act Foreigners Tribunal Assam Foreigners Tribunal Assam Guahati High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy