Advertisement
E-Paper

‘কে-৯ বজ্র’ থেকে কামিকাজ়ে ড্রোন, পাকিস্তান, চিনের মোকাবিলায় ১ লক্ষ কোটির অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত শুক্রবার?

শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় বিষয়ক কমিটি’ সেনার জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’-প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৭:০০
New K-9 Guns, Kamikaze Drones and More for Armed Forces of India

‘কে-৯ বজ্র’ হাউইৎজ়ার। —ফাইল চিত্র।

নজরে একই সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তান এবং চিনের মোকাবিলা। সেই সঙ্গে গুরুত্ব প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকীরণে, আত্মনির্ভরতাতেও। জোড়া লক্ষ্য সামনে রেখেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরবর্তী পর্যায়ে নতুন করে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য তৎপরতা শুরু করতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি, শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় বিষয়ক কমিটি’ (ডিএসি)-র বৈঠকে সেনার জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’-প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে।

‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ সরাসরি অস্ত্র বা সরঞ্জাম কেনার নির্দেশ নয়। এটি আনুষ্ঠানিক ভাবে সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদাকে স্বীকৃতি দেয় এবং দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন ও পরবর্তী চুক্তি-আলোচনার মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সূচনা করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, শুক্রবার ডিএসি-র বৈঠকে উপস্থাপিত হওয়ার প্রস্তাবগুলির মধ্যে উত্তর ও পশ্চিম—উভয় সীমান্তে পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে দ্রুত সেনার আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখার (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে, আত্মঘাতী (কামিকাজ়ে) ড্রোন, ১৫৫ এমএম হাউইৎজ়ার (কামান), ‘ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র’, সাঁজোয়া গাড়ি (আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকল) এবং অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থা (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার) উপকরণ।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সাঁজোয়া গাড়িবাহী ১৫৫ এমএম, ৫২-ক্যালিবারের হাউইৎজ়ার ‘কে-৯ বজ্র’ ইতিমধ্যেই ভারতীয় সেনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লাদাখের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে রাজস্থানের মরুভূমি পর্যন্ত এই কামানের কার্যকারিতা দেখে সন্তুষ্ট সেনা। দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা হানওয়া টেক উইন সংস্থার সঙ্গে যৌথ ভাবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিতে নির্মিত আরও ‘বজ্র’ এ বার সেনার ভান্ডারে ঠাঁই পেতে পারে বলে সূত্রের খবর। ‘কে-৯ বজ্র’-বাহী সাঁজোয়া গাড়িটিও ভারতীয় সংস্থা ‘লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’র তৈরি।

অন্য দিকে, সিঁদুর অভিযানের পর থেকেই হানাদার ড্রোনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সেনা। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সরযুক্ত এই বিস্ফোরকবাহী ড্রোন (সামরিক পরিভাষায়, ‘লয়টারিং মিউনিশন’) সাধারণ ভাবে কামিকাজ়ে ড্রোন নামে পরিচিত। লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানার আগে নির্দিষ্ট এলাকার উপর আকাশে ভাসমান অবস্থায় থাকতে পারে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর। বস্তুত, ‘পিসকিপার’ গোত্রের এ জাতীয় ড্রোন সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই মেটাতে পারে। ফলে কমে ফাইটার পাইলটদের জীবনহানির ঝুঁকি। দেশে তৈরি মাঝারিপাল্লার ‘কামিকাজ়ে’ (আত্মঘাতী) ড্রোন ‘অগ্নিবেগ’ গত মাসেই হাতে পেয়েছে সেনা। প্রাথমিক ভাবে দিল্লির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থা এসএমপিপি ১০৬টি ড্রোন সরবরাহ করেছে। দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় মোতায়েনের লক্ষ্যে কয়েক হাজার ‘অগ্নিবেগ’ বরাতের বিষয়টি নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে বৈঠকে।

Indian Defence System Indian Army Kamikaze Drones Rajnath Singh Defence Ministry of India Defence Acquisition Council Defence

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy