পর পর কাজ করে চলেছেন আলিয়া ভট্ট। কিন্তু সমালোচনা ও তির্যক মন্তব্য তাঁর পিছু ছাড়ছে না। অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন থেকে ছবিতে লড়াইয়ের দৃশ্য— বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্রমাগত ট্রোল করা হচ্ছে তাঁকে। এমনকি সময় রায়নার অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়েও তাঁকে খোঁচা দিয়ে চলেছেন নিন্দকেরা। সমাজমাধ্যমে অনবরত ঠাট্টাও করা হচ্ছে আলিয়াকে নিয়ে। এই অবস্থায় মেয়েকে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বাবা মহেশ ভট্ট?
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে কাজ করছেন মহেশ। কখনও প্রশংসা পেয়েছেন। কখনও আবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এখন প্রায় একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে তাঁর কন্যা আলিয়াকে। কিন্তু মেয়েকে এ বিষয়ে কোনও পরামর্শ দেন না বলেই জানিয়েছেন বর্ষীয়ান পরিচালক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মহেশ খোলাখুলি জানিয়েছেন, কী ভাবে তিনি সন্তানদের বড় করেছেন এবং স্বাধীন ভাবে বাঁচতে শিখিয়েছেন।
আলিয়াকে নিয়ে কথা উঠতেই মহেশ স্পষ্ট জানান, বাবা হিসাবে তিনি কখনও সন্তানদের জীবনে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তাঁর কথায়, “আমি আমার সন্তানদের কখনও কোনও উপদেশ দিই না। ওরা আমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। ওরা আজকের সময়ের মানুষ। ওরা নিজেদের মতো করেই শিখবে। জীবনই ওদের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। জীবনের চেয়ে বড় শিক্ষা আর কিছু নেই।”
আরও পড়ুন:
সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত রক্ষণশীল হওয়ার পক্ষেও নন তিনি। জনসমক্ষে সমালোচনার মুখে পড়লেও তাঁদের আগলে রাখতে চান না মহেশ। পরিচালক বলেন, “অতিরিক্ত সুরক্ষা মানুষকে দুর্বল করে দেয়। কখনও আলো দেখতে হয়, কখনও আবার সেই আলোর তাপে পুড়তেও হয়। এ সব আমাদের সঙ্গেও হয়েছে।”
৭৭ বছরের পরিচালক মনে করেন, সকল তারকার জীবনেই খ্যাতির সঙ্গে বিদ্বেষও আসে। তাঁর কথায়, “খ্যাতির একটা মূল্য আছে। সূর্যের আলোয় তো পুড়তেও হয়। জীবনই সবচেয়ে বড় শিক্ষক। তাই আমি সন্তানদের কখনওই বলি না যে, ওরা যেন আমার দেখানো পথেই হাঁটে। সেটা ঠিকও নয়। ওদের জীবন আলাদা, সময় আলাদা, আর সফরের পথও সম্পূর্ণ আলাদা।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে ‘আলফা’ ছবির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত আলিয়া। তাঁর পাশাপাশি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শর্বরী, অনিল কপূর এবং ববি দেওল। ৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।