Advertisement
E-Paper

জাল নথি তৈরি করে ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারদের সুযোগ! অভিযোগ সিএবি কর্তার বিরুদ্ধে, অভিযুক্ত বললেন, সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে সিএবির ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল। জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত কর্তা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৬
Allegations against CAB Committee Member submitted to WB Sports Minister Indranil Khan

ইডেন গার্ডেন্স। —ফাইল চিত্র।

আরও এক বার সিএবির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ল পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে। ভিন রাজ্যের ছ’জন ক্রিকেটারকে নাকি বেআইনি ভাবে বাংলার হয়ে খেলার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ করা হয়েছে সিএবির ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান দেবীপ্রসন্ন পাড়ির বিরুদ্ধে। তাঁর মাধ্যমেই নাকি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এই ক্রিকেটারদের এই রাজ্যে খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও তিনি যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও এর আগে এই ধরনের একাধিক অভিযোগ নিয়ে বলেছেন, সবই পরিকল্পিত।

ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তথ্যপ্রমাণ-সহ নতুন যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে, সন্দেহজনক আবাসিক প্রমাণপত্র দাখিল করে, ভুয়ো ঠিকানার উল্লেখ করে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে এবং আরও বিভিন্ন জাল নথি ব্যবহার করে সিএবি পরিচালিত প্রতিযোগিতাগুলিতে ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারদের নাকি খেলানো হয়েছে।

অভিযোগে যে ছ’জন ক্রিকেটারের নাম করা হয়েছে, তাঁরা হলেন, স্বাগত কুমার ঝা (মূল রাজ্য: দেওঘর, ঝাড়খণ্ড), অভিশান্ত বক্সী (জম্মু ও কাশ্মীর), অনিল কুমার (মূল নাম: অনিল তোমার, হরিয়ানা), সুধাংশু সিংহ (সুলতানপুর, উত্তর প্রদেশ), মাবরুক আহমেদ (উত্তর প্রদেশ), সানি কুমার পন্ডিত। এঁদের প্রত্যেকের সিএবির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ, এ অ্যান্ড এস ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাধ্যমে এই দু্র্নীতিগুলি হয়েছে। দেবিপ্রসন্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই অ্যাকাডেমি নাকি তাঁরই। তাঁর অ্যাকাডেমি এবং সহযোগী ক্লাবগুলির মাধ্যমেই নাকি সিএবিতে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার বেআইনি ভাবে নথিভুক্ত হয়েছেন।

বলা হয়েছে, এঁদের বিরুদ্ধে এবং আরও বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তাঁদের বয়স, ঠিকানা এবং আবাসিক যোগ্যতা নিয়ে বারবার অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি কবে, কোথায় জানানো হয়েছে, সেগুলিও ক্রীড়ামন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন শান্তনু। উল্লেখ্য, তিনি গত দু’বছরে সিএবিকে এই নিয়ে যেমন একাধিক চিঠি দিয়েছেন, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিবকেও অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে জাল নথি তৈরির অভিযোগ তিনি করেছেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), ডিসি সাউথ, ব্যারাকপুরের ডিসি (স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ) এবং দমদম থানার ওসির কাছে।

ক্রীড়ামন্ত্রীকে পাঠানো ইমেলে তিনি লিখেছেন, ‘‘এই বিষয়টি এখন আর কেবল খেলাধুলো সংক্রান্ত দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মিথ্যা পরিচয় দেওয়া বা ভুয়ো আবাসিক নথিপত্র তৈরি এবং ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। এই ধরনের নথিপত্র ব্যবহার করে ক্রিকেটের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বৃহত্তর অপরাধের সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে বিষয়টি বৃহত্তর জনস্বার্থে ক্ষতি করতে পারে।’’

অভিযোগে বলা হয়েছে, নথিপত্র-সহ যাবতীয় প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এবং বারবার অভিযোগ করা হলেও সিএবি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা এই অনিয়মগুলিকে নির্বিঘ্নে চলতে সাহায্য করেছে।

তিনটি বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে ক্রীড়ামন্ত্রীকে। এক, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারেরা বাসস্থান এবং বয়স সংক্রান্ত যে নথিপত্র জমা দিয়েছেন, তার সত্যতা যাচাই করা হোক। দুই, গোটা বিষয়ে দেবীপ্রসন্ন এবং জড়িত অন্যান্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেওয়া হোক। তিন, সিএবির কর্তাদের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা হোক। কারণ, পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এবং বার বার অভিযোগ জমা পড়া সত্ত্বেও তাঁরা ব্যবস্থা নেননি।

যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই দেবীপ্রসন্ন পাল্টা শান্তনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন। তাঁর বক্তব্য, যেহেতু শান্তনুর পুত্র সাগ্নিককে তিনি খেলার সুযোগ করে দেননি, সেই রাগে এ সব করা হচ্ছে। পুরোটাই প্রতিশোধের স্পৃহা থেকে। দেবীপ্রসন্ন বললেন, ‘‘ওঁর ছেলে আমার অ্যাকাডেমিতে প্র্যাকটিস করত। উইকেটকিপার ব্যাটার। কিন্তু একেবারেই শৃঙ্খলাপরায়ণ নয়। সময়ে আসত না। সে ভাবে প্র্যাকটিস করত না। ওকে বলেছিলাম, খেলতে গেলে শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে। ওকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তখন ওর বাবা (অভিযোগকারী শান্তনু) আমাকে বলেন, যে টাকা উনি দিয়েছেন তা ফেরত দিতে হবে। আমি ফেরতও দিয়েছি। কিন্তু সুযোগ দেওয়া যায়নি। সেই রাগ থেকে এখন উনি এ সব করছেন।’’

এই অভিযোগ শুনে শান্তনু বললেন, ‘‘ধরে নিলাম আমার ছেলে খুব খারাপ খেলে বা বিশৃঙ্খল। তা হলে ওকে সই করানো হয়েছিল কেন? জার্সি দেওয়া হয়েছিল কেন? দলে রাখা হয়েছিল কেন? এ সব করার পরে শুধু রেজিস্ট্রেশনটা করানো হয়নি। তার বদলে ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারকে টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছিল।’’

শান্তনুর আরও প্রশ্ন, ‘‘এক জন (দেবীপ্রসন্ন পাড়ি) সিএবির কমিটি চেয়ারম্যান হয়ে কী করে অ্যাকাডেমি চালান? উনি কী করে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকেন? ওঁর তো খিদিরপুর ক্লাবের হয়ে ভোটাধিকার রয়েছে। তারপর সাবার্বান ক্লাবের সঙ্গে ওঁর ক্রিকেটারকে সই করানো নিয়ে চুক্তিও রয়েছে। এগুলো কি স্বার্থের সঙ্ঘাত নয়? এটা তো বিচারপতি লোধা কমিটির নির্দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া।’’

দেবীপ্রসন্নকে অ্যাকাডেমি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, ‘‘ওই অ্যাকাডেমি আমার নামে নয়। তবে ওটা আমিই চালাই।’’ তবে কি এটা স্বার্থের সঙ্ঘাত নয়? দেবীপ্রসন্ন বললেন, ‘‘ক্রিকেটের উন্নতি জন্য আমি কাজ করি। আমি ব্যবসায়ী মানুষ। আমার আর কি দায় আছে? ক্রিকেট তো আমার রোজগারের জায়গা নয়। এখান থেকে টাকা তোলার কোনও লক্ষ্য আমার নেই। ১০ বছর ধরে ময়দানে আছি। কোনও দিন কেউ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেনি। ক্রিকেট ভালবাসি বলেই তার উন্নতির চেষ্টা করি। যে কেউ যা খুশি অভিযোগ করে দিলে তো কাজ করাই মুশকিল। এখন তো মনে হচ্ছে, সিএবিতে এসে আমি ভুল করেছি। আমার এবং আমার পরিবারের যথেষ্ট সম্মান আছে। সেগুলো নষ্ট হচ্ছে।’’

CAB Indranil Khan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy