Advertisement
E-Paper

মন্ত্রিসভায় বাংলার কত, শুরু জল্পনা

এ মাসের শেষে শপথ নেবে মোদী মন্ত্রিসভা। তার আগেই শুরু হয়েছে জল্পনা। কারা থাকছেন স্বরাষ্ট্র-অর্থ-প্রতিরক্ষা-বিদেশ— এই বিগ ফোরে? রেলমন্ত্রী হবেন কে? বিজেপির কেউ, না শরিক দলের?

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০১৯ ০৩:২২
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল ছবি

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল ছবি

কে টিকে রইলেন? কার ঘাড়ে পড়ল কোপ? পদোন্নতি নাচছে কার কপালে? কে হচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী? কে হতে পারেন চমক? অপ্রত্যাশিত ভাল ফল করার পরে বাংলার কত জন জায়গা পাবেন নরেন্দ্র মোদীর নতুন মন্ত্রিসভায়?? এমন হাজারো জল্পনাতেই এখন বুঁদ দিল্লি। সময় যত গড়াচ্ছে, রক্তচাপ বাড়ছে প্রত্যাশীদের। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের ফোনের প্রত্যাশায় চাতকের অপেক্ষা সাংসদদের।

এ মাসের শেষে শপথ নেবে মোদী মন্ত্রিসভা। তার আগেই শুরু হয়েছে জল্পনা। কারা থাকছেন স্বরাষ্ট্র-অর্থ-প্রতিরক্ষা-বিদেশ— এই বিগ ফোরে? রেলমন্ত্রী হবেন কে? বিজেপির কেউ, না শরিক দলের? জল্পনায় উত্তাল বিজেপির অন্দরমহল। গুজগুজ, ফিসফাস, কানাকানি ছেঁকে যে নামগুলি উঠে আসছে তার মধ্যে বিগ ফোরে নুতন মুখ আসারই সম্ভাবনা। যেমন অমিত শাহ। বিজেপি সভাপতি এত দিন রাজ্যসভার সাংসদ থাকলেও এ বার গাঁধীনগর থেকে ৫ লক্ষ ভোটে জিতেছেন। বিজেপির একাংশের মতে, অমিত শাহ হতে চলেছেন আগামী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংহ যাবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে। কিন্তু বিজেপিরই অন্য অংশের মতে, অমিত শাহ দলের সভাপতি। গোটা দল চলে তাঁর নির্দেশে। সুতরাং সেই ক্ষমতা ছেড়ে তিনি কেবল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে ফাইল নাড়াচাড়া করে সময় কাটাবেন, এমন ভাবা যুক্তিহীন। যেখানে দলের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি দ্বিতীয় বার দলের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে থাকতে পারেন ২০২৪, অর্থাৎ আগামী লোকসভা পর্যন্ত। তাই সরকার না দল— অমিত শাহ কী বেছে নেন, তাই দেখার। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত সুষমা স্বরাজের। এ বারের নির্বাচনে লড়েননি তিনি। যদিও তাঁকে রাজ্যসভা থেকে জিতিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। কিন্তু তিনি অনিচ্ছুক হলে নির্মলা সীতারামনের কপালে বিদেশমন্ত্রীর শিকে ছিঁড়তে পারে।

প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে অরুণ জেটলিকে নিয়ে। শারীরিক অসুস্থতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দু’সপ্তাহের বেশি তিনি ঘর থেকে বেরোননি। আজ সচিবদের সঙ্গে বাড়িতে বৈঠক করলেও পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জেটলির অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানো পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পীযূষ গয়ালের নাম সে ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছে। যদিও দলের একাংশ সংস্কারমুখী নিতিন গডকড়ীকে অর্থমন্ত্রী দেখতে চাইছেন। সে ক্ষেত্রে বিগ ফোরে অন্তর্ভুক্ত হবেন কোনও নতুন মুখ।

অমেঠীতে রাহুল গাঁধীকে হারানো স্মৃতি ইরানি যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেতে চলেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত অনেকেই। সূত্রের মতে, গ্রামোন্নয়ন বা নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। অতীতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসাবে স্মৃতি মিডিয়ার উপর নজরদারি চালিয়ে অযথা বিতর্ক বাধানোয় তাঁকে ওই পদে না বসানোর পক্ষেই বিজেপির একাংশ। পদোন্নতি হতে পারে মুখতার আব্বাস নকভির। তাঁকে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক কিংবা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব দিতে পারেন মোদী। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রকাশ জাভড়েকরের কাজে মোটের উপর খুশি বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার। তাই তাঁকে ওই পদে বা গুরুত্ব বাড়িয়ে রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে পীযূষের পরে ফের মহারাষ্ট্র থেকেই প্রকাশকে রেলমন্ত্রী করা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে দলে। তালিকায় রয়েছেন সুরেশ প্রভু। গডকড়ী পরিবহণ মন্ত্রক থেকে সরে গেলে সেই দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি। বিমান মন্ত্রকের জন্য ভাবা হচ্ছে হর্ষ বর্ধনকে। মেনকার জন্য থাকছে নারী ও শিশুকল্যাণ। ছেলে বরুণ হতে পারেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নতুন মুখ হিসাবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন গৌতম গম্ভীর। নীতীশ থেকে রামবিলাস বা মহারাষ্ট্রে শিবসেনা— পূর্ণ মন্ত্রকের দাবিদার শরিক দলগুলিও। সূত্রের খবর, এ বার রেলমন্ত্রক পাওয়ার দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নীতীশের দল। পাসোয়ান চান ছেলে চিরাগের জন্য ইস্পাত মন্ত্রক।

এ বার একাধিক মন্ত্রকের দাবিদার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে আশাতীত ভাল ফল করেছে বিজেপি। একে ১৮টি আসন, তায় দু’বছর বাদেই বিধানসভা ভোট। সুতরাং অন্তত দু’টি পূর্ণমন্ত্রী ও একাধিক প্রতিমন্ত্রীর দাবি রয়েছে রাজ্যের। পূর্ণমন্ত্রীর দৌড়ে আছেন আগের মন্ত্রিসভার দুই জয়ী প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয় এবং এস এস অহলুওয়ালিয়া। তবে সূত্র বলছে, দু’জনের মধ্যে অন্তত এক জনের মন্ত্রিত্ব যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য ক্যাবিনেট মন্ত্রী হতে পারেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু বিধানসভার আগে রাজ্য ছেড়ে দিল্লিতে মন্ত্রিত্ব সামলানো তাঁর পক্ষে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সদ্য সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং সুভাষ সরকারের মধ্যে একজনকে প্রতিমন্ত্রী করা নিয়ে ভাবনা চলছে। তালিকায় নাম রয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে হারানো অর্জুন সিংহ এবং দু’বারের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র। দৌড়ে সামান্য হলেও এগিয়ে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ভাবা হচ্ছে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নাম।

আজ বিকেলে সাউথ ব্লকে বিদায়ী সরকারের শেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন মোদী। সেখানে জয়ের জন্য সতীর্থদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার পরেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র দিয়ে আসেন।

Election Results 2019 Lok Sabha Election 2019 লোকসভা ভোট ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy