বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার সূচনার জন্য অমিত শাহ বেছে নিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিকে। আগামী ১ মার্চ রায়দিঘি থেকে সূচনা হবে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার। সেখানে থাকবেন শাহ স্বয়ং। ওই একই দিনে রাজ্যের আরও চার প্রান্ত থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে। পরের দিনই শুরু হবে আরও চার প্রান্তে। তালিকায় উত্তরবঙ্গও রয়েছে, যেখানে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি তুলনায় বেশি বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু শাহ বেছে নিলেন তৃণমূলের দেড় দশকের দুর্গ দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে।
গোটা ভারতে নরেন্দ্র মোদীর প্রধান সেনাপতি হিসাবে যিনি পরিচিত, তাঁকেই কেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পরিবর্তন যাত্রা শুরুর জন্য বেছে নেওয়া হল— তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা গত দেড় দশক ধরে তৃণমূলের দুর্গ হিসাবেই পরিচিত। তৃণমূলের ‘দুঃসময়ের দুর্গ’ বললেও অত্যুক্তি হয় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসারও আগে থেকে এই জেলা তাঁর সঙ্গ দিয়ে গিয়েছে। সেই ২০০৮ সাল থেকে। ওই বছরের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল দু’টি জেলা পরিষদ জিতেছিল। তার মধ্যে একটি পূর্ব মেদিনীপুর, অন্যটি দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পূর্ব মেদিনীপুরে জয়ের ক্ষেত্রে নন্দীগ্রাম আন্দোলন অন্যতম অনুঘটক হয়ে থাকতে পারে। তবে সেই বাম আমলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদ জিতে নেয় তৃণমূল।
সেই থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ধারাবাহিক ভাবে ভাল ফল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই জেলা মমতাকে কখনও খালি হাতে ফেরায়নি। তৃণমূলের ভোটও বৃদ্ধি পেয়েছে এই জেলায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সাংসদ ওই জেলা থেকেই। গত বিধানসভা ভোটেও জেলার ৩১টি বিধানসভার মধ্যে ৩০টিই তৃণমূল জিতেছে। একমাত্র ভাঙড় রয়েছে আইএসএফ-এর হাতে। তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত সেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করছেন শাহ। অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত এই জেলায়, শাসকদলকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন শাহ।
রাজ্যে বিজেপির মোট ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ রয়েছে। তার মধ্যে কলকাতা মহানগর বাদে বাকি ন’টি বিভাগ থেকেই আগামী ১-২ মার্চ শুরু হচ্ছে পরিবর্তন যাত্রা। ১ মার্চ শুরু হবে রাজ্যের পাঁচ প্রান্ত থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি এবং গড়বেতার মতো বিধানসভা কেন্দ্রগুলিও। ওই দিন উত্তরবঙ্গ (কোচবিহার) থেকে একটি যাত্রা শুরু হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতেও হিন্দিভাষীদের সংখ্যা যথেষ্ট। মেদিনীপুরেও শুরু হবে একটি যাত্রা। এই এলাকাগুলিতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিও দক্ষিণ ২৪ পরগনার তুলনায় বেশি বলে ধরে নেওয়া হয়। তবে সাংগঠনিক ভাবে তুলনামূলক ‘দুর্বল’ দক্ষিণ ২৪ পরগনাকেই পরিবর্তন যাত্রার সূচনার জন্য বেছে নিলেন শাহ।
আরও পড়ুন:
মার্চের শুরুতে যে ৯টি বিভাগে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে, প্রতিটি বিভাগেই যাত্রার সূচনা করতে আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তালিকায় শাহের পাশাপাশি রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, জেপি নড্ডা, রাজনাথ সিংহ, নিতিন গড়কড়ী, দেবেন্দ্র ফডনবীস, ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো নেতারাও। শাহ চাইলে এই বাকি বিভাগগুলির মধ্যে যে কোনও একটিতে যাত্রার সূচনা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি প্রচারাভিযান শুরুর জন্য বেছে নিলেন এমন একটি জেলা, যেখানে বিজেপির এক জনও জনপ্রতিনিধি নেই। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এমন একটি ভাষ্যও বার বার তুলে ধরার চেষ্টা করে যে এই জেলা বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারবে না। বিজেপির অনেকেই মনে করছেন, এই বিষয়গুলিকে মাথায় রেখেই দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে বেছে নিয়েছেন শাহ। শাসকদল যে জেলাকে তাদের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য বলে মনে করছে, সেই জেলা থেকেই নিজের প্রচারাভিযান শুরু করছেন তিনি।