কেউ দেখেছেন ‘টুনটুনি’-কে? গত দু’দিন ধরে চেনা-পরিচিত যাঁর সঙ্গে দেখা হচ্ছে, এই একটি প্রশ্ন করছেন ঝর্না দে। কেউ বলতে পারেননি। কাঁদো কাঁদো হয়ে শেষমেশ এলাকায় পোস্টার সাঁটাতে শুরু করেছেন মহিলা। ৪০ দিন বয়সি কুকুরটির খোঁজ দিতে পারলে হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে দে পরিবার। বর্ধমান শহরের বেড় এলাকায় ছেয়ে গিয়েছে ওই পোস্টারে।
‘টুনটুনি’ আসলে একটি দেশি কুকুর, ‘ইন্ডিয়ান পারিয়া ডগ।’ তবে দেখতে অনেকটা বিদেশি প্রজাতির কুকুরছানার মতো। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা ঝর্নার কাছে পরম যত্নে বাড়ছিল সে। ঝর্না এবং তাঁর পরিবার সারমেয় ভালবাসেন। তাঁদের বাড়িতে ১২টি কুকুর সন্তানস্নেহে বড় হচ্ছে। কিন্তু দে পরিবারের আশঙ্কা, ‘‘সুন্দর হওয়ার জন্য হয়তো ‘টুনটুনি’-কে হয়তো কেউ চুরি করেছে।’’ তবে খুঁজে বার করতে চেষ্টার খামতি রাখছেন না তাঁরা।
ঝর্না জানান, গত শুক্রবার সকাল থেকে ‘টুনটুনি’কে খুঁজে পাচ্ছেন না। কুকুরটির বয়স এক মাস ১০ দিন। পোষ্যদের মতো সবচেয়ে ছোট। তাই সবচেয়ে বেশি আদরের ছিল।
ঝর্নার কন্যা দেবশ্রী দে দুর্গাপুরে পড়াশোনা করেন। ‘টুনটুনি’ নিখোঁজের খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে গিয়েছেন তিনি। পোষ্যের খোঁজে তন্নতন্ন করেছেন এলাকা। বর্ধমান থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ‘টুনটুনি’-র ছবি-সহ ‘সন্ধান চাই’ পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। সন্ধান দিলে এক হাজার টাকা পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করেছে দে পরিবার।
নিখোঁজ পোষ্যের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ঝর্না। কাঁদো কাঁদো মুখে তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে ১২টি কুকুর। সবাই বাড়িতেই খায়। টুনটুনি হারিয়ে যাওয়ার পর ওর মা কিছু খাচ্ছে না। কেউ যদি ওর খোঁজ দেন, আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।” ঝর্নার মে দেবশ্রী জানান, “প্রতি দিন সকালে বাবা ওদের খাবার দেন। সেদিনও দিয়েছিলেন। তার পর থেকেই আর টুনটুনিকে দেখা যায়নি। অনেকেই ওকে নিতে চাইছিল। কিন্তু ৬০ দিন বয়স না হওয়ায় আমরা কাউকে দিইনি।” দেবশ্রীদের ঘোর সন্দেহ, বিস্কুট বা খাবারের লোভ দেখিয়ে কেউ তুলে নিয়ে গিয়েছে তাঁদের ছোট্ট সারমেয়টিকে।
দে পরিবার বলছে, ‘টুনটুনি’ তাদের কাছে শুধু পোষ্য নয়, সে ওই বাড়িরই সদস্য। তাকে ফিরে পেতে মরিয়া সকলে। সকলেই অপেক্ষা করছেন সুখবরের— ‘টুনটুনি’কে পাওয়া গিয়েছে।