মানহানির অভিযোগে এ বার সুকান্ত মজুমদারকে আইনি নোটিস পাঠালেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার। রাজীবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। এমনকি, কয়লাকাণ্ড এবং গরুপাচার মামলার সঙ্গেও রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশপ্রধানকে জুড়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এই সকল মন্তব্যের জন্য রাজীবের সম্মান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ। সুকান্তকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি রাজীবের। তা নিয়ে আইনজীবী মারফত সুকান্তকে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজীব। পাল্টা খোঁচা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও।
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালাচ্ছে বিজেপি। সম্প্রতি পরিবর্তন যাত্রা চলছিল বিজেপির। সেই সময়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে বক্তৃতা করেন সুকান্ত। জানা যাচ্ছে, এমন বেশ কিছু সভায় রাজীবকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সর্বশেষ আক্রমণটি করেছিলেন শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির এক সভা থেকে। আইনি নোটিসে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজীবের চরিত্রহনন করার জন্যই এই সব মন্তব্য করা হয়েছে। রাজীবের দাবি, এর জন্য সাত দিনের মধ্যে সুকান্তকে সমাজমাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বস্তুত, গত ৩০ জানুয়ারিই এই আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন রাজীবের আইনজীবী। তবে সুকান্তের দফতর সূত্রে খবর, চিঠিটি বালুরঘাটে সাংসদের দফতরের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল। তিনি এত দিন সংসদের অধিবেশন এবং অন্য দলীয় কর্মসূচির জন্য বালুরঘাটের বাইরে ছিলেন। তাই চিঠিটি এত দিন তাঁর হাতে আসেনি। যদিও মন্ত্রীকে ওই চিঠি ইমেল মারফতও পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দু’পাতার ওই চিঠিতে রাজীবের আইনজীবী লেখেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম-সহ বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনজীবী লেখেন, ওই ভিডিয়োয় রাজীবের বিরুদ্ধে কিছু মিথ্যা, সাজানো এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা করতে দেখা যাচ্ছে সুকান্তকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তৃতার কোন অংশ নিয়ে আপত্তি, তা-ও বিস্তারিত জানানো হয়েছে চিঠিতে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিয়োর লিঙ্কও জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে। অভিযোগ করা হচ্ছে, রাজীবের সুনাম, খ্যাতি এবং পেশাগত চরিত্রকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মানহানির অভিযোগের আইনি চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রাজীবকে কয়লা কেলেঙ্কারি এবং গরুপাচার সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গেও জুড়ে দিতে দেখা গিয়েছে সুকান্তকে। আইনজীবী মারফত রাজীব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানান, এই সব মানহানিকর বক্তব্যের কারণে তিনি ভীষণ অপমানিত হয়েছেন এবং মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করছেন। সমাজের কাছে তাঁর পেশাগত অবস্থানেরও অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সুকান্ত ইচ্ছাকৃত ভাবে রাজীবের চরিত্রহননের জন্যই এই ধরনের মিথ্যা বক্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে চিঠিতে।
এই অবস্থায় রাজীবের দাবি, ওই মন্তব্যের জন্য সমাজমাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। যে সব প্লাটফর্মে ওই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিটি প্লাটফর্মে ক্ষমা চাইতে হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। যাচাই না-করে রাজীবের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা-ও স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে সুকান্তকে। চিঠির প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছেন রাজীব। অন্যথায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তবে এই চিঠির কথা প্রকাশ্যে আসার পরে রাজীবকে পাল্টা বিঁধেছেন সুকান্তও। রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “ওঁর যা ভাবমূর্তি, তা তো আপনারা-আমরা সবাই জানি। ফাইল লোপাটে অভিযুক্ত বলে তাঁকে অনেকে মনে করেন। তাঁকে ধরতে সিবিআই গিয়েছিল তাঁর বাসভবনে। সাম্প্রতিক যে ঘটনা ঘটেছিল, তাতে দেখা গিয়েছে ‘ফাইল চুরিকাণ্ডে’ উনি মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ হয়েছেন। হাতে হাত মিলিয়েছেন। এই যে ভাবমূর্তি, তা আমি আর কতটুকু উজ্জ্বল করতে পারব। উনি নিজেই উজ্জ্বল করে রেখেছেন। আদালতের কী কী পর্যবেক্ষণ আছে, আপনারা শুনেছেন। প্রয়োজনে আগামী দিনে আমরাও সমাজমাধ্যমের সামনে আনব। উনি আইনি পথে লড়তে চেয়েছেন, আমরা আইনি পথে লড়ব।” একটি সূত্রের খবর, রাজীবের পাঠানো ওই আইনি নোটিসের একটি জবাবও দিয়েছেন সুকান্ত।