সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট-ইউজি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরি পাশ করিয়ে দেওয়ার নামে বড় প্রতারণাচক্রের হদিস পেল সে রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
এসটিএফ সূত্রে খবর, স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (এসএসসি) পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার নামে একটা বড় প্রতারণাচক্র চলছিল। ওই প্রতারণচক্রটি পরীক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল যে, চার লক্ষ টাকা দিলেই পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়া হবে। গোপন সূত্রে খবর পায় এসটিএফ। তার পরই রাজ্য জুড়ে তল্লাশি অভিযানে নামে তারা। গ্রেটার নয়ডার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে এই চক্রের ‘মূল মাথা’-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এসটিএফ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রটি ‘সলভার’ হিসাবে কাজ করত। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, এই চক্রটি আধাসামরিক বাহিনী, সেক্রেটারিয়েট সিকিউরিটি ফোর্স, কনস্টেবল জিডি এবং অসম রাইফেলস-এর পরীক্ষাতেও লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার কাজ করছিল। অনলাইন চাকরির পরীক্ষায় নানা রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর পৌঁছে দিচ্ছিল। শুক্রবার গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রদীপ চৌহান, অরুণ কুমার, সন্দীপ ভাটি, নিশান্ত রাঘব, অমিত রানা, শাকির মালিক এবং বিবেক কুমারকে গ্রেফতার করে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রদীপ চৌহান দীর্ঘ দিন ধরে এই চক্র চালাচ্ছিলেন। অরুণ কুমার প্রযুক্তির বিষয়টি সামলাতেন। বাকি ধৃতদের কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে যখন নিটের প্রশ্নফাঁস এবং তার পর পরীক্ষা বাতিল নিয়ে হুলস্থুল চলছে, সেই সময় উত্তরপ্রদেশে এসএসসি পরীক্ষার প্রতারণাচক্র ধরা পড়তেই তৎপর হল রাজ্য প্রশাসন।