সুবর্ণ জয়ন্তীতে পা দিল হাইলাকান্দির দুর্গাবাড়ির পুজো।
শহরের একাদশ শহিদ স্মরণে ওই পুজো শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালে। হাইলককান্দি তখন মহকুমা। সেই সময় শহরে হাতেগোণা কয়েকটি দুর্গাপুজো হতো। দুর্গাবাড়ির পুজো ছিল সেগুলির অন্যতম। প্রথম দিকের পুজোর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন হাইলাকান্দির প্রশাসনিক কর্তা অরবিন্দ চৌধুরী। তাঁর চেষ্টায় হাইলাকান্দির মহকুমা তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের ব্যবস্থাপনায় পুজোর দিনে সিনেমাও দেখানো হয়েছিল। প্রথম বছরের পুজোয় দেখানো হয় ‘আনন্দমঠ’। সাদা-কালো ওই সিনেমা বড়পর্দায় দেখতে ভিড় উপচে পড়ে।
প্রথম পুজোর পরিচালন সমিতির সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত নির্মলকান্তি চৌধুরী। ছিলেন তপু ঘোষ, মণীষ দেব, বিধুভূষণ দেব, সন্তোষকুমার রায়, বিজয়কুমার ধর, প্রবীরকান্তি রায়, বাবলু সেন, নিরঞ্জন চন্দরাও।
প্রথম দিকে এই পুজোয় আঢ়ম্বরপূর্ণ ছিল না। কিন্তু দর্শনার্থীদের জন্য থাকত ভোগের আয়োজন। হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাড়ার প্রবীণ বাসিন্ধা কণিকা দেবের কথায় ফিরল সে সব সোনালি দিনের পুজোর গল্প। ৭৪ বছরের বৃদ্ধা যেন খুলে বসনে ইতিহাসের পাতা। বললেন, ‘‘তখনকার দিনে আজকের মতো এত ঢাক বাজত না। কাসি-ঘন্টা-মৃদঙ্গের সুর তাল শোনা যেত। হতো আরতি প্রতিযোগিতা।’’
হাইলাকান্দি মহকুমা থেকে বদলেছে জেলায়। অনেক বছর ধরে ধীরে ধীরে বদলেছে দুর্গাপুজোর রীতিনীতিও। বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা এখন অগুণতি। রেড়েছে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিযোগিতা। তবে পুরনো ঐতিহ্.কে এখনও আঁকড়ে ধরে এগোচ্ছে দুর্গাবাড়ির পুজো। ১৯৮০ সালে দুর্গাবাড়িতে দুর্গামন্দির তৈরি করেন অর্জুন ঘোষ। ওই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন সন্তোষকুমার রায়, সুনীল দে, নীহারেন্দু চৌধুরী। ২০০৫ সালে হাইলাকান্দি জেলা পরিষদ সেখানে নাটমন্দির তৈরি করে দেয়।
এ বার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে পুজো পরিচালন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মোহনলাল ভট্টাচার্য। সহ-সভাপতি বিধুভূষণ দেব, সম্পাদক স্বপন দেব, রাজু চক্রবর্তী। রাজুবাবু জানান, পুজোয় তাঁদের মূল আকর্ষণ ত্রিপুরার ঢাকি। সেই সঙ্গে নতুন ধাঁচের আলোকসজ্জা।
দুর্গাবাড়ির পুজোর উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সুবর্ণ জয়ন্তীর পুজোয় জাঁকজমক করতে গিয়ে কারও উপর চাঁদার বোঝা চাপাতে চান না। তাই আঢ়ম্বরের পথে না এগিয়ে আন্তরিকতায় সবাইকে পুজোয় সামিল করতে চান।