আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরেই সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে রাজ্যসভার সাংসদ তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ। শনিবার পঞ্জাবের জলন্ধরে তাঁর বাড়ির সামনে আপ সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির বাইরের দেওয়ালে কালি দিয়ে ‘গদ্দার’ লিখে দেওয়া হয়েছে, যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘বিশ্বাসঘাতক’। এর পরেই রবিবার হরভজনকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। জলন্ধরে হরভজনের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।
সূত্র উল্লেখ করে সংবাদসংস্থা পিটিআই শনিবার জানিয়েছিল, হরভজন-সহ আপ-ত্যাগী সাংসদেরা এত দিন পঞ্জাব পুলিশের যে নিরাপত্তা পেতেন, তা তুলে নেওয়া হয়েছে। হরভজনের সঙ্গে পঞ্জাব পুলিশের ৯ থেকে ১০ জন আধিকারিক সব সময় থাকতেন। তাঁদের আর দেখা যাচ্ছে না। রবিবার থেকে তাঁর বাড়ির সামনে রয়েছে সিআরপিএফ। যাঁরা আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পৃথক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে দিয়েছে বলে খবর। একই নিরাপত্তা পাচ্ছেন রাঘব চড্ঢাও। জানা গিয়েছে, পঞ্জাব পুলিশের নিরাপত্তা সরে যাওয়া এবং হরভজনদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনার পরেই কেন্দ্র পৃথক নিরাপত্তার নির্দেশে সিলমোহর দেয়।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার আপ ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন হরভজনেরা। তাঁদের দলত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেন রাঘব নিজে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অপর দুই সাংসদ অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠকও। একই সঙ্গে আপ ছেড়েছেন স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রমজিৎ সাহনি। রাজ্যসভায় আপের ১০ জন সাংসদ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাত জনই দলবদল করেছেন। শুক্রবারই তাঁদের ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।
দলের ভিতর রাঘব যে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজ্যসভার উপদলনেতার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল। তার পর তাঁর দলত্যাগ ছিল সময়ের অপেক্ষা। অপর সাংসদ স্বাতীও দীর্ঘ দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ। তবে অন্যদের দলত্যাগ সমর্থকদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ২০২৪ সাল থেকে যে অশোকের বাড়িতে সপরিবার থাকছিলেন কেজরী, তিনিও বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। দু’দিনের মধ্যেই তাঁরা সকলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন।