তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এক তরুণ-তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে। নদীর ধার থেকে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, এটি পরিবারের ‘সম্মানরক্ষার্থে’ খুনের ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন ভিন্ধর্মের ওই তরুণ। অভিযোগ, সেই সময় তরুণীর পরিবারের সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে যান। তার পরই শুরু হয় মারধর। চেঁচামেচি শুনে তরুণী বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি দেখেন প্রেমিককে মারধর করা হচ্ছে। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। বেধড়ক মারধরের কারণে তরুণ-তরুণী দু’জনেরই মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার কথা যাতে কেউ জানতে না পারেন, তার জন্য রাতারাতি দু’জনের দেহ তুলে নিয়ে গিয়ে গগন নদীর ধারে পুঁতে দেওয়া হয়। তরুণের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তার ভিত্তিতে তরুণের খোঁজ চলছিল। সেই সূত্র ধরেই তরুণের প্রেমের সম্পর্কের হদিস পায় পুলিশ। কিন্তু তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁরও কোনও খোঁজ মেলেনি। আর এখান থেকেই সন্দেহ হয় পুলিশের। তরুণীর পরিবারের কয়েক জন সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সেই জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভেঙে পড়েন তাঁরা। তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা স্বীকার করেন, দু’জনকে মারধরের পর নদীর ধারে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে, এই ঘটনার সঙ্গে তরুণীর দাদারা জড়িত। তার পরই তাঁদের আটক করা হয়। কোথায় দেহ দু’টি পুঁতে রাখা হয়েছে, সেখানে পুলিশকে নিয়ে যান অভিযুক্তেরা। মাটি খুঁড়ে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তরুণের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে, তরুণীর দুই দাদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।