পেশায় ওষুধের সংস্থার কর্মী। আর নেশায় সমাজসেবক। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সমাজের দায়িত্ব তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন একটু অন্য ভাবে। মুম্বইয়ের অশোক কুর্মি শহরের একাধিক বস্তিতে গিয়ে করোনা স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতন করছেন সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে বাচ্চাদের। কোনওদিন মজার ছলে শেখাচ্ছেন স্যানিটাইজার ব্যবহারের গুরুত্ব, কোনওদিন কী ভাবে মাস্ক পরতে হয় শিখিয়ে দিচ্ছেন হাতে ধরে। ৩৭ বছরের অশোকের জীবনে শেষ দেড় বছরে এই কাজ এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। আর তিনি বস্তির শিশুদের কাছে হয়ে উঠেছেন প্রিয় ‘জোকার’।
Volunteer social worker Ashok Kurmi is helping an army of young fans fight the coronavirus in Mumbai's slums using an unusual accessory: a clown costumehttps://t.co/hsd7Y09khK pic.twitter.com/TFCTEl5IHK
— AFP News Agency (@AFP) June 4, 2021
ওষুধের সংস্থায় কাজ করে যা উপার্জন হয়, তার এক তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার টাকা তিনি প্রতিমাসে এই কর্মকাণ্ডে জন্য ব্যয় করেন। গাঁটের কড়ি খরচ করে এমন করেন কেন? অশোক জানাচ্ছেন, ‘‘বস্তির মানুষেরা, বিশেষত বাচ্চারা, পিপিই কিট পরে স্বাস্থ্যকর্মীদের আসতে দেখলেই ভয়ে কাঁটা হতে থাকে, কাছে যেতে চায় না, কোনও পরামর্শ নিতে চায় না। তাই আমি ওদের কাছে টানতে এমন মজাদার পোশাক পরে যাই। তাতে ওরা কাছেও আসে, স্বাস্থ্যবিধির কথা শোনে।’’
Ashok Kurmi has been disinfecting a poverty-stricken area of Mumbai and made it his mission to teach children how to protect their health during the health crisis pic.twitter.com/nPeqaQ6V2A
— Reuters (@Reuters) May 4, 2021
সমাজসেবা অশোকের নেশা। শেষ ১৫ বছর ধরে তিনি ওষুধের সংস্থার কর্মী। পরিবার সামলে এখন মানুষের জন্য কাজ করা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে তাঁর। কখনও মিকি মাউস, কখনও স্পাইডারম্যান, সান্টা ক্লজ, ডোরেমন সেজে বস্তিতে বস্তিতে যান তিনি। যেমন সম্প্রতি ধারাভি বস্তিতে গিয়েছিলেন, তবে এ বার জোকার সেজে। তাঁর জোকারের সাজই বাচ্চাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এ বারেও সেই সাজে গিয়ে ধারাভিতে অশোক কারও হাতে তুলে দিয়েছেন স্যানিটাইজার, কারওর হাতে মাস্ক। শিখিয়ে দিয়েছেন, করোনা থেকে বাঁচতে ঠিক কী কী স্বাস্থ্যবিধি মানা দরকার।
‘মেরা নাম জোকার’, ‘সার্কাস’-এর শহরে এ এক অন্য জোকারের গল্প। করোনা-যোদ্ধা জোকারের গল্প।