বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ মুম্বই বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। লিয়ারজেট-৪৫ সংস্থার ছোট আকারের ব্যক্তিগত ওই বিমানে (প্রাইভেট জেট) আট থেকে ন’জনের বসার জায়গা রয়েছে। বিমানটি ভেঙে পড়ে ৮টা ৪৩ মিনিট নাগাদ, ওড়ার ঠিক ৩৩ মিনিট পর। দুর্ঘটনায় অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমানের গতিবিধিতে নজরদারি চালায় এমন কিছু সংস্থার তথ্য বলছে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমানটি আচমকা সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
নিজের শহর বারামতীতে বুধবার রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা তথা শরদ পওয়ারের ভাইপো অজিতের। একাধিক রিপোর্টে দাবি, তাঁর বিমানটি ৮টা ৩৪ মিনিট থেকে নজরদারি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে অবশ্য ফের সঙ্কেত পাঠানো শুরু হয়েছিল ওই বিমান থেকে। অজিতের বিমানটি প্রথম বারের চেষ্টায় বারামতীর রানওয়েতে নামতে পারেনি। এর পর এক বার চক্কর কেটে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমান পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়। আর কোনও সঙ্কেত সেখান থেকে আসেনি। এই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, যেখান থেকে বিমানটি এডিএস-বি সঙ্কেট পাঠানো বন্ধ করেছিল, সেই জায়গাটি মূল অবতরণস্থল বারামতী বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক ভাবে বিমানের উড়ানে কোনও গোলমাল শনাক্ত করা যায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছ’কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল। তখন তার গতি ছিল ১০৩৬ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এই গতিবেগেই উড়েছে বিমান। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটির উচ্চতা কমে এসেছিল ১০১৬ মিটারে। গতিবেগ ছিল ২৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন পাইলট। জানিয়েছিলেন, রানওয়ে তিনি দেখতেই পাচ্ছেন না। তার পর বিমানটিকে এক বার চক্কর খাইয়ে ফের অবতরণের চেষ্টা করেন। এই সময় পাইলট জানিয়েছিলেন তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে।