আছড়ে পড়ার আগে আরও এক বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের বিমান। দ্বিতীয় বারের চেষ্টার সময়ে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। এমনটাই জানাচ্ছে বিমানের যাত্রাপথ পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরেডার ২৪’।
বুধবার সকালে একটি চার্টার্ড বিমানে মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা। সকাল ৮টা নাগাদ রওনা দিয়েছিলেন তিনি। অবিভক্ত এনসিপির রাজনৈতিক ঘাঁটি বারামতীতে বুধবার চারটি সভা করার কথা ছিল তাঁরা। সামনেই সেখানে জেলা পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। সেই ভোটের প্রচারেই যাচ্ছিলেন অজিত। কিন্তু তার আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন এনসিপি নেতা। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ অজিতকে নিয়ে বারমতী বিমানবন্দরে রানওয়ের ধারে আছড়ে পড়ে বিমান।
‘ফ্লাইটরেডার ২৪’-এর তথ্য বলছে, বিমানটি আছড়ে পড়ার আগেও এক বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। অবতরণের চেষ্টা প্রথম বার ব্যর্থ হওয়ার পরে আকাশে এক চক্কর কেটে দ্বিতীয় চেষ্টা করেন পাইলট। দ্বিতীয় বার রানওয়েতে নামার সময়েই ভেঙে পড়ে বিমানটি। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের একটি ধারে ভেঙে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় তাতে।
কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রানওয়ে থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “বিমানটি যখন নামছিল, দেখেই মনে হচ্ছিল সেটি ভেঙে পড়বে। হলও তা-ই। তার পরক্ষণেই বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায় বিমানে। পরে আরও চার-পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি।”
আরও পড়ুন:
অবতরণের চেষ্টার সময়ে শেষ মুহূর্তে কি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন পাইলট? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তদন্তকারীরা বিমানটির ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ করার পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মিলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ-র প্রধান ফৈয়জ় আহমেদ কিড়াই জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বারামতী বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছে ডিজিসিএ-র প্রতিনিধিদল।
দুর্ঘটনার সময়ে লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর ‘ভিটি-এসএসকে’ বিমানটিতে অজিত-সহ পাঁচ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দু’জন ছিলেন বিমানকর্মী। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ জানাচ্ছে, দুর্ঘটনায় পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বারামতীর এই বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে নেমেছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-ও।