সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তায় থাকেন সব বাবা-মাই। শিশু কী খাবে, কতটা খাবে আর কখন খাবে— এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা থাকেই। শিশু রোজ যা যা খাচ্ছে, তার থেকে শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছচ্ছে কি না এটি জানাও খুব জরুরি। বাড়ন্ত শিশুকে হাড়ের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য সুষম আহারই দিতে হবে। আর শিশু যদি নিরামিষ খেতে পছন্দ করে, তা হলে খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখতে হবে যাতে প্রোটিন ও ভিটামিন ভরপুর পরিমাণে থাকে। রোজ কোন কোন খাবার তালিকায় রাখলে শিশুর প্রোটিনের অভাব হবে না, তা জেনে নিন।
সুষম আহারের মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় দুধের কথা। দুধের মধ্যে থাকা ক্যালশিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়। শিশুকে রোজ নিয়ম করে দুধ খাওয়ানো উচিত। তবে যদি দুধে অ্যালার্জি থাকে বা দুধ হজম না হয়, তা হলে পনির, দই, ছানা, মাখন এ সব রাখুন তার খাদ্যতালিকায়। এতে প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ হবে।
আরও পড়ুন:
সয় প্রোটিন খুবই উপকারী। সপ্তাহে এক দিন খেতে পারেন। কিন্তু প্রত্যেক দিন বেশি পরিমাণে সয় প্রোটিন খাওয়া করা ঠিক নয়। এক কাপ সয়াবিনে ৮.৫ গ্রাম এবং আধ কাপ টোফুতে পাবেন ১০ গ্রাম প্রোটিন।
পিনাট বাটারেও প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম আছে। খেতে ততটা সুস্বাদু নয় বলে হয়তো শিশু খেতে চাইবে না। মায়েরা সে ক্ষেত্রে পাউরুটির মুচমুচে টোস্ট বানিয়ে তার মধ্যে পিনাট বাটার দিয়ে দিন। গরম আটার রুটি রোল করে ভিতরে পিনাট বাটার দিয়ে শিশুকে প্রাতরাশে দিন। সঙ্গে দিন ফ্রুট স্যালাড। ফল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নুন ও গোলমরিচ দিয়ে দিন। ফল এমন ভাবে সাজিয়ে দিন যে দেখেই খেতে চাইবে শিশু।
রোজের খাবারে দই রাখতেই হবে। দই খুব ভাল প্রোবায়োটিক। দইতে প্রচুর ক্যালশিয়ামও থাকে। শিশু স্কুলে গেলে টিফিন বক্সে বাকি খাবারের পাশাপাশি টক দইও দিয়ে দিন। ২০০ গ্রাম দই থেকে প্রায় ২৮০-৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম পাওয়া যাবে।
টাটকা ফলের রসও দিন শিশুকে। তবে ভুলেও প্যাকেটজাত ফলের রস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াবেন না।