মুলায়ম সিংহ যাদবের কনিষ্ঠপুত্র প্রতীক যাদবের মৃত্যু নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব’ জোরালো হতেই তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক মুখ খুললেন। অত্যন্ত স্বাস্থ্যবান, নিয়মিত জিম করা চেহারার অধিকারী, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন প্রতীকের আচমকা মৃত্যু নিয়ে রহস্য বাড়ছিল। কিন্তু প্রতীকের মৃত্যুর নেপথ্যে যে অন্য কারণ রয়েছে, তা খোলসা করলেন পারিবারিক চিকিৎসক। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে মৃত্যু হয় প্রতীকের।
সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর ধরে প্রতীকের চিকিৎসা করছিলেন তিনি। বছর পাঁচেক আগে বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে তাঁর চেম্বারে হাজির হয়েছিলেন মুলায়ম-পুত্র। তখন তাঁর বয়স আরও কম। অত্যন্ত স্বাস্থ্যবান ছিলেন। বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না যে, তাঁর একটা গভীর সমস্যা রয়েছে। ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন, নানা রকম পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল যে, প্রতীকের ‘ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস’ বা ডিভিটি-র সমস্যা রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ম্যাসিভ পালমোনারি থ্রম্বোএম্বলিজ়ম-এর কারণে হৃদ্যন্ত্র থেমে গিয়েছিল।
পালমোনারি থ্রম্বোএম্বলিজ়ম হল রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া। এই সমস্যা সাধারণত ডিভিটি থেকেই থাকে। যার জেরে পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে যায়। সেই জমাট বাঁধা রক্ত ফুসফুসে পৌঁছোতেই রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। গত এপ্রিলেও এই সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল প্রতীককে। এমনই জানিয়েছেন চিকিৎসক রুচিতা শর্মা। তিনি জানিয়েছেন, প্রতীক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন ছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে পারতেন না। গত এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তির এক দিন আগে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন প্রতীক। তাঁর বুকে আঘাত লেগেছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বুকে আঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর ডান হাতের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তা হলে কি হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে প্রতীকের? পারিবারিক চিকিৎসক রুচিতা কিন্তু সেই সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেননি।