পড়াতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে এক ছাত্রকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করার অভিযোগ উঠল এক গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁর রণমূর্তি দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকল বাকি ছাত্রছাত্রীরা। এক ছাত্রকে নৃশংস ভাবে মারধর করার সেই ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে সাফাই দিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তীব্র ক্ষোভ ও গ্রেফতারের দাবি উঠতেই বিষয়টিকে লঘু করার চেষ্টা করলেন তিনি। আক্রান্ত ছাত্র ও তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করেছেন যে ওই ঘটনাটি সবটাই সাজানো।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে মারধরে অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সুমিত। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শিক্ষক যখন পড়াচ্ছিলেন, তখন ছাত্র ক্লাসরুমের মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে ছিল। এর পর সুমিত হাতে একটি লাঠি নিয়ে ছাত্রকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করেন। তাঁর আক্রমণ এতটাই হিংস্র ও নির্মম ছিল যে উপস্থিত বাকি ছাত্রছাত্রীও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। লাঠির ঘা পড়তেই মরিয়া হয়ে ছাত্রটি নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে শুরু করে। শিক্ষকের লাঠি কিছুতেই থামে না। এতেও শিক্ষকের রাগ পড়েনি। লাঠি দিয়ে মারার পর তিনি ছাত্রটিকে প্রচণ্ড জোরে লাথি ও ঘুষি মারতে থাকেন। ভিডিয়োটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই একটি নতুন ভিডিয়ো পোস্ট করেন শিক্ষক সুমিত। ‘ মিক্কু’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে ভিডিয়োগুলি। দু’টি ভিডিয়োরই সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
নতুন ভিডিয়োয় মারধর খাওয়া ছাত্র এবং তার বাবা শিক্ষকের নিন্দা করার পরিবর্তে তাঁর প্রশংসা করেছেন। ছাত্রটিকে জোর দিয়ে বলতে শোনা যায় যে সে দিনের মারধরটি আসল ছিল না। সুমিতকে খুব ভাল শিক্ষক বলে উল্লেখ করেন ছাত্রের বাবা। ছাত্র ঘটনাটির ব্যাখ্যা করে জানায়, এটি কেবল একটি অভিনয় ছিল। এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে যে দু’দশক আগে শিক্ষকেরা কী ভাবে ছাত্রদের শাসন করতেন। ছাত্রের বাবা প্রথম ভিডিয়োটিকে সস্তার প্রচার বলে দাবি করে জানান, শিক্ষককে বদনাম করার জন্যই ভিডিয়োটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নেটমাধ্যমে।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ভিডিয়োটিও অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বহু মানুষই ভিডিয়োটি দেখে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাজার হাজার লাইক জমা পড়েছে দু’টি ভিডিয়োয়। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এখন দোষ ঢাকার চেষ্টা করবেন না। প্রথম ভিডিয়োতেই নৃশংসতা স্পষ্ট ছিল। ছাত্রকে মারধর করা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।” দ্বিতীয় নেটাগরিক লিখেছেন, “এটা যদি শুধু অভিনয়ই হত, তবে এত বাস্তব লাগছিল কেন? শিক্ষকদের উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। কোনও নাটকে অভিনয় করা নয়।’’