আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের থেকে তথ্য নিয়ে ছত্তীসগঢ়ের গরিয়াবন্দ জেলায় তল্লাশি অভিযানে নামে নিরাপত্তাবাহিনী। মাওবাদীদমন অভিযান চালানোর সময় জেলারই ছ’টি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওড়িশা লাগোয়া মইপুর থানার অন্তর্গত ভালুডিগ্গি এবং মেতাল পাহাড়ি এলাকায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযান চালায় পুলিশ, ডিস্ট্রিক্ট রিজ়ার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং স্পেশ্যাল ই-৩০ ইউনিট। ভালুডিগ্গি এবং মেতাল পাহাড়ি জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই অভিযানে ইনসাস রাইফেল, দেশি পিস্তল, ১২ বোরের বন্দুক, সিঙ্গল শট বন্দুক, ১২৭টি কার্তুজ, বেশ কয়েকটি ম্যাগাজ়িন, ২২টি শেল-সহ প্রচুর বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গরিয়াবন্দের এই ছয় জায়গা ছিল মাওবাদীদের অস্ত্র মজুত এবং নির্মাণের ডেরা। যে তিন জনের উপর দায়িত্ব ছিল এই ডেরাগুলির, সেই তিন মাওবাদী সদস্যেরই মৃত্যু হয়েছে বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে। গত দেড় বছর ধরে গরিয়াবন্দে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন বিরাট’ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই এলাকার সমস্ত সক্রিয় মাওবাদী ২৬ জানুয়ারির আগে আত্মসমর্পণ করেছেন।
অন্য দিকে, ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে একই দিনে আত্মসমর্পণ করলেন ৫১ জন মাওবাদী। মিলিত ভাবে তাঁদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। শুক্রবারই ছত্তীসগঢ় সীমানা লাগোয়া মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন সাত জওয়ান। ঘটনাচক্রে ওই অভিযানের পরই বস্তারে এক সঙ্গে আত্মসমর্পণ করলেন ৫১ জন।
ছত্তীসগঢ়ের বস্তার ডিভিশনের দুই জেলা বিজাপুর এবং সুকমায় আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ৩৪ জন মহিলাও রয়েছেন। বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পত্তিলিঙ্গম জানান, শনিবার বিজাপুরে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩০ জন মাবাদী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০ জন মহিলা। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুকমা জেলাতেও ১৪ জন মহিলা-সহ মোট ২১ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। মাওবাদীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য ছত্তীসগঢ় সরকারের ‘পুনা মার্গম’ পুনর্বাসন প্রকল্প রয়েছে। ওই প্রকল্পের আওতাতেই তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
বৃহস্পতিবারই ওড়িশায় একসঙ্গে ১৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাওবাদীদের রাজ্য কমিটির নেতা নিখিল ওরফে নিরঞ্জন রাউত এবং তাঁর স্ত্রী অঙ্কিতা ওরফে রশ্মিতা লেঙ্কা। দম্পতির মাথার দাম ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র নেতা-কর্মীদের বার বার মূলস্রোতে ফিরে আসার বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগে এক দিকে যেমন মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের হিড়িক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চলছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানও। গত মাসেই বিজাপুরে একসঙ্গে ৫২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের মাথার মোট দাম ছিল ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে বার বার এমন আত্মসমর্পণের ঘটনা দেখা গিয়েছে বস্তার ডিভিশনের বিভিন্ন প্রান্তে।