উত্তরপ্রদেশে গাজ়িয়াবাদে তিন বোনের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল পুলিশ। সূত্রের খবর, তিন কিশোরীর বাবা চেতন কুমারের তিনটি বিয়ে। শুধু তা-ই নয়, এক লিভ ইন সঙ্গীও ছিল তাঁর। যদিও ২০১৫ সালে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। রাজেন্দ্রনগরের একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল চেতনের লিভ ইন সঙ্গীর। যদিও কোনও প্রমাণ না পেয়ে পুলিশ সেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসাবেই উল্লেখ করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, লিভ ইন সঙ্গীর মৃত্যুর পর তিন মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন চেতন। তাঁরা সহোদরা। প্রথম স্ত্রী সুজাতা, দ্বিতীয় স্ত্রী হিনা এবং তৃতীয় স্ত্রী টিনা। সুজাতার কন্যার নাম নিশিকা। হিনার দুই কন্যা— প্রাচী এবং পাখি। চেতন শেয়ার লেনদেন সংক্রান্ত কাজ কাজ করেন। দু’কোটি টাকা দেনা রয়েছে তাঁর। ফলে পরিবারে আর্থিক অনটন চলছিলই। তার জেরে কি সন্তানদের থেকে ক্রমশ দূরত্ব বেড়েছিল অভিভাবকদের? সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
-
গাজ়িয়াবাদে তিন বোনের ঝাঁপ: কোরীয় সংস্কারে আসক্তি বাড়ছিল কন্যাদের! ফোন কেড়ে নেন বাবা, অবসাদেই আত্মঘাতী, বলছে পুলিশ
-
কোরিয়ান গেমে বুঁদ তিন বোন ভিডিয়ো বানিয়ে ইউটিউবে তুলত! ক্ষিপ্ত বাবা চ্যানেল বন্ধ করতেই কি একসঙ্গে মরণঝাঁপ?
-
১০ তলা থেকে ঝাঁপ: ‘কে-ড্রামা’ দেখার নেশা ছিল তিন বোনের! সমাজমাধ্যমের হ্যান্ডলও ছিল কোরিয়ান নামের অনুকরণে
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তিন মায়ের সঙ্গে কন্যাদের সম্পর্ক খুব একটা ভাল ছিল না বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, কিশোরীরা বেশির ভাগ সময় কাটাতেন বাবার সঙ্গেই। এই সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে সুইসাইড নোটে তিন মায়ের কারও নাম উল্লেখ না থাকায়। সেখানে পুরোটাই বাবার উদ্দেশে লেখা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘর থেকে যে ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, সেখানে কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ, ভালবাসা এবং ভাললাগার কথা উল্লেখ করা রয়েছে। একই সঙ্গে, পারিবারিক বিবাদের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এখান থেকেই তদন্ত মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।