বাইক নিয়ে গর্তে পড়ে গিয়েছেন এক যুবক! দিল্লির জনকপুরীতে পাইপলাইনের কাজের জন্য গর্ত খোঁড়ার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারকে জানান। সাহায্যের কাতর আবেদন করেও লাভ হয়নি। ঘটনাস্থলে ঠিকারদার থাকলেও গর্তে পড়ে যাওয়া যুবককে বাঁচাতে কোনও পদক্ষেপই করেননি। শুক্রবার রাতে দিল্লি জল বোর্ড প্রকল্পের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান উল্লেখ করে এমনই জানাল পুলিশ।
দিল্লির জনকপুরীর ওই ১৫ ফুট গর্তে পড়ে মৃত্যু হয় কমল ধ্যানি নামে বছর পঁচিশের এক যুবকের। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পশ্চিম জেলার ডিএসপি শরদ ভাস্কর জানান, রাজেশ কুমার নামে এক ঠিকাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই গ্রেফতারির কথা জানাতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য দেন তিনি।
শরদ জানান, তদন্তে বিপিন সিংহ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি রোহিণীতে গিয়েছিলেন এক আত্মীয়ের বিয়েতে। সেই বিয়েবাড়ি সেরে সাগরপুরে তাঁর বাড়িতে ফেরার পথে জনকপুরীতে চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা ঠিকাদার সংস্থার আস্তানায় গিয়ে জানান। তিনি যোগেশ নামে এক জনকে পাঠান।
আরও পড়ুন:
বিপিনের বয়ান অনুযায়ী, যোগেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গর্তের মধ্যে শুধু বাইকের হেডলাইটের আলো দেখতে পান। এতই অন্ধকার ছিল যে, ওই গর্তে পড়ে থাকা কমলের শরীর দেখতে পাননি। তৎক্ষণাৎ তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তা রাজেশকে গোটা বিষয়টি জানান। কিন্তু তার পরেও কমলকে বাঁচানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে জানালেন শরদ।
ডিএসপির কথায়, ‘‘আমরা শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনার কথা জানতে পারি। কিন্তু ঠিকাদার সংস্থার লোকেরা রাতেই বিষয়টি জানতেন। তবে কাউকে কিছু জানাননি।’’ পুলিশ জানিয়েছে, নির্মীয়মাণ কর্মীদের থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কমলকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কমলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাস্তায় খনন সম্পর্কে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। খনন কাজের সঙ্গে জড়িত সমস্ত বিভাগ এবং সংস্থাগুলিকে আট দফা নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি।