অন্ধ্রপ্রদেশের পর এ বার মহারাষ্ট্র। নগাপুরের একটি বারুদ কারখানায় রবিবার ভয়ানক বিস্ফোরণ হয়। সেই সময় কারখানার ভিতরে অনেক শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, হঠাৎই জোরালো বিস্ফোরণের শবেদ কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। তার পরই দেখা যায়, বারুদ কারখানা থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বার হচ্ছে। গ্রামবাসীরা উদ্ধারকাজে নামেন। কিন্তু তত ক্ষণে অনেকেরই ঝলসে মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ এতটাই জোরালো ছিল যে, কারখানার ছাদ উড়ে গিয়েছে। শ্রমিকদের দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল। কোথাও আবার দেহাংশও পড়ে ছিল। আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, দেহগুলি এমন ভাবে ঝলসে গিয়েছে যে, শনাক্ত করাও কঠিন হচ্ছে। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ, দমকল। পরে আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও (এনডিআরএফ)। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাগপুরের পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) হর্ষ পোদ্দার জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৭টা থেকে সওয়া ৭টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, এই সংস্থার ডিটোনেটর প্যাকিং শাখায় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের জেরে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। নাগপুরের এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। মৃতদের পরিবারের জন্য দু’লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা। অন্য দিকে, রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ফডণবীস বলেন, ‘‘নাগপুরের এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রাখছি। আহতদের চিকিৎসার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলার ভেটলাপালেম গ্রামে এক আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়। ওই কারখানায় বাজি তৈরির প্রচুর মশলা, রাসায়নিক পদার্থ ওই কারখানায় মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ২০ শ্রমিকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে।