Advertisement
E-Paper

‘বাবা আমাকে বাঁচাও’! পুত্রের সেই আর্তি ভুলতে পারছেন না রাজকুমার, উদ্ধারকাজ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বাবা

ছেলে তাঁকে কী কী বলেছিল, সেই কথাই স্মরণ করছিলেন রাজকুমার। তাঁর কথায়, ‘‘ছেলে আমাকে ফোন করে বলে বাবা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। আমাকে বাঁচাও।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০০
(বাঁ দিকে) মৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতা। (ডান দিকে) তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বাবা রাজকুমার মেহতা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

(বাঁ দিকে) মৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতা। (ডান দিকে) তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর বাবা রাজকুমার মেহতা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শুক্রবার রাত ১২টা ৪ মিনিট। হঠাৎ ফোন বেজে উঠেছিল রাজকুমার মেহতার। ফোনটা ধরতেই দেখেন ছেলে ফোন করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজের জন্য রাতবিরেতে তাঁকে ঘরে ফিরতে হয়। শুক্রবার রাতেও গাড়ি চালিয়ে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ ফিরছিলেন যুবরাজ মেহতা। রাজকুমার ফোনটা রিসিভ করতেই ও পাশ থেকে ছেলের কান্নাজড়ানো গলা শুনতে পেলেন— ‘‘বাবা, আমাকে বাঁচাও।’’ তার পর চোখের সামনে ছেলেকে জলে তলিয়ে যেতে দেখেছেন অসহায়ের মতো। কিন্তু ছেলের সেই আর্তি ‘বাবা আমাকে বাঁচাও’— এই কথাগুলো যেন তাঁকে বার বার বিদ্ধ করছে। এ কথা বলতেই বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজকুমার।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে রাজকুমার বলেন, ‘‘আমার জীবনে এই প্রথম এত অসহায় লাগছে। চোখের সামনে ছেলেকে মরতে দেখলাম। ওকে বাঁচাতে পারলাম না। শুধু বার বারই কানে ভাসছে, বাবা আমাকে বাঁচাও।’’ এর পরই রাজকুমারের মন্তব্য, ‘‘ন্যায়বিচারের জন্য যত দূর যেতে হয় যাব। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের সকলকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’’

ছেলে তাঁকে কী কী বলেছিলেন, সেই কথাই স্মরণ করছিলেন রাজকুমার। তাঁর কথায়, ‘‘ছেলে আমাকে ফোন করে বলে বাবা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। আমাকে বাঁচাও।’’ ছেলের ফোন পেয়েই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাজকুমার। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। রাত ১২টা ৬ মিনিট। রাজকুমার ১১২ ডায়ালে ফোন করে সাহায্য চান। রাত ১২টা ১৫ মিনিট। অর্থাৎ ৯ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। রাত ১২টা ৫০ মিনিট। দমকল এসে পৌঁছোয় দুর্ঘটনাস্থলে। নিয়ে আসা হয় মই, ক্রেন, নৌকা এবং সার্চলাইট। কিন্তু কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা শূন্যে নেমে যাওয়ায় যুবরাজকে ঠিকমতো ঠাহর করা যাচ্ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, জল এতটাই ঠান্ডা ছিল যে জলাশয়ে প্রথমে উদ্ধারকারীরা নামতে চাননি। রাত ১টা ১৫ মিনিট । রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী আসে। দুর্ঘটনার দু’ঘণ্টা পর আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

রাজকুমারের দাবি, তাঁর ছেলে ৯০ মিনিট ধরে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে গিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল, দমকল আসার পরেও কেন যুবরাজকে জীবিত উদ্ধার করা গেল না? প্রশ্ন উঠেছে, সিভিল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোলেও কর্মীরা সাঁতার না জানার কারণে জলে নামতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে এক পুলিশকর্তাকে সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করলে তাঁর যুক্তি, ‘‘সিভিল পুলিশদের সাঁতার জানতেই হবে, এমনটা কোথাও বলা নেই। তা ছাড়া দমকলের কাজ আগুন নেবানো। তাঁদের কাছে নৌকা থাকারও কথা নয়। এই কাজ বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর। তাদের খবর দেওয়া হয়। তারা এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে।’’ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র এক কর্তা জানান, খবর পাওয়ার পরই একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু গাজ়িয়াবাদ থেকে ঘটনাস্থল ৪০ কিলোমিটার দূরে। তার সঙ্গে ঘন কুয়াশা। সব মিলিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে দেরি হয়। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে বাঁচাতে সব রকম ভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল।

শুক্রবার গভীর রাতে কাজ থেকে ফেরার সময় তাঁর আবাসন থেকে কয়েক মিটার দূরে রাস্তায় বাঁক নিতে গিয়ে গভীর জলাশয়ে গাড়িসমেত পড়ে যান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ। গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও, সাঁতার না জানার কারণে পাড়ে উঠতে পারেননি। বাবা রাজকুমার মেহতাকে ফোন করে তাড়াতাড়ি আসতে বলেন। কিন্তু গাড়ি তত ক্ষণে ভাসতে ভাসতে পাড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে চলে গিয়েছিল। তার মধ্যে ঘন কুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। ছেলের ফোন পেয়েই ঘটনাস্থলে আসেন রাজকুমার। পুলিশ, উদ্ধারকারী দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও আসে। ৯০ মিনিট ধরে জলের উপর ভেসে থাকার পর গাড়িসমেত ডুবে যান যুবরাজ।

Noida
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy