বাবা-মা দু’জনেই আইএএস অফিসার। তাঁদের সন্তানদের জন্য কেন সংরক্ষণ থাকবে? প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এক মামলায় দেশের সংরক্ষণ নীতি প্রসঙ্গে এক বড় পর্যবেক্ষণ দিল শীর্ষ আদালত। জানাল, আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল এবং শিক্ষাগত ভাবে অনেক এগিয়ে, এমন পরিবারের কি সত্যিই সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে?
বিচারপতি বিভি নাগরত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূয়ানের বেঞ্চে অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে বিচারপতি নাগরত্না প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যদি বাবা-মা দু’জনেই আইএএস অফিসার হন, তা হলে তাঁদের সন্তানদের জন্যও সংরক্ষণ থাকবে কেন? এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হতে হবে। এতে লাভটা কী? আপনারা সংরক্ষণ দিচ্ছেন। পড়াশোনা করেছেন, ভাল চাকরি করেন, ভাল আয় করেন। আবার আপনার সন্তানেরাই সংরক্ষণ চাইছেন? মনে হয়, আপনাদের সংরক্ষণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত!’’
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, একটি প্রজন্মের শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অর্থনৈতিক উন্নতি, তাদের সামজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে তাদের ভবিষ্যতে সংরক্ষণের প্রয়োজন কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। ওই সব পরিবার তাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের দাবি করে, তবে তা অনুচিত। কোনও না কোনও সময় তাদের সংরক্ষণের আওতা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে।
আরও পড়ুন:
অতীতে এমন অনেক মামলাতেই আদালত আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল এবং শিক্ষাগত দিক এগিয়ে থাকা পরিবারকে সংরক্ষণের আওতার বাইরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে সেই সব নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হচ্ছে আদালতে। সেই বিষয় উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যাঁদের সত্যিই সংরক্ষণের প্রয়োজন, তাঁদের জন্যই সেটা থাকা উচিত। বিচারপতিদের মতে, এই সব ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য থাকার প্রয়োজন।