E-Paper

পাক-আমেরিকা পরমাণু সমীকরণে উদ্বেগে ভারত

সিন্ধু প্রদেশের সরকারের সংস্কৃতি বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাবলের দাবি, সিন্ধু নদের জল পাকিস্তানে বইতে বাধা দিলে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর হামলা হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০২৫ ০৮:৪৪
(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাতে সঙ্গত করে পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো জ়ারদারি ভারতের বিরুদ্ধে আরও এক দফা যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। সিন্ধু প্রদেশের সরকারের সংস্কৃতি বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাবলের দাবি, সিন্ধু নদের জল পাকিস্তানে বইতে বাধা দিলে দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর হামলা হবে।

ভারত এই হুমকিগুলিতে যথোচিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সাউথ ব্লকের ঘুম কেড়েছে আমেরিকার একটি মন্তব্য। মুনিরের সফরকালে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সামরিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু নিরাপত্তার চাবিকাঠি। কূটনৈতিক মহল বলছে, ভারতকে চরম ভাবে চাপে ফেলার জন্য ধারাবাহিক ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার যে মন্তব্যগুলি করে চলেছে এবং শুল্ক ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করেছে, এই ধরনের মন্তব্য তারই নতুন সংস্করণ। ভারতের কৌশলগত মিত্র আমেরিকার সঙ্গে এই মুহূর্তে চলছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির শেষ ধাপ। এরই মধ্যে রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় জরিমানা হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আগামী মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন (২৬ সেপ্টেম্বর) রাখার কথা জানানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দোলাচলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিউ ইয়র্কে না-ও যেতে পারেন। আগামী দু’-তিন সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মোদী না গেলে তাঁর দূত হিসেবে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে নিউ ইয়র্ক পাঠানো হবে, যেমনটা অতীতে অনেক বার হয়েছে।

গত সপ্তাহে আমেরিকায় গিয়ে পাক সেনাপ্রধান দেখা করেছিলেন সে দেশের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কায়নের সঙ্গে। তাঁরা আলোচনা করেন সন্ত্রাস-বিরোধিতার মেকানিজ়ম এবং দু’দেশের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী সংযোগ নিয়ে। বৈঠকের পরে আমেরিকার সামরিক বিভাগের মুখপাত্র জোসেফ হোলস্টেড বিবৃতি দেন, ‘পাকিস্তান-আমেরিকা সামরিক অংশীদারি পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করার জন্য, আঞ্চলিক সুস্থিতি বজায় রাখার জন্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও পরমাণু নিরাপত্তাকে বহাল রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি’। ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী পর্যায়ে যখন গোটা বিশ্বে ইসলামাবাদ এবং তাদের পাচার করা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে মরিয়া মোদী সরকার, তখন আমেরিকার এমন মন্তব্যে ঘুম ছুটেছে সাউথ ব্লকের। মুনিরের পরমাণু হুঁশিয়ারির পরে ভারত আমেরিকাকেও পরোক্ষ খোঁচা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা শুধু যে মুনিরকে বারবার আতিথ্য দিচ্ছে তাই-ই নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে পরমাণু সমীকরণ তৈরির কথাও প্রকাশ্যে বলছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Diplomacy Pakistan USA

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy