Advertisement
E-Paper

সিঁদুর অভিযানে আকাশের দখল ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে চলে আসে, সেই জন্যই সংঘর্ষবিরতি চাইতে হয় পাকিস্তানকে: রিপোর্ট

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বার বার দাবি করেছেন, তিনিই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ট্রাম্পের ওই দাবিকে সমর্থন করেছে ইসলামাবাদও। যদিও ভারত শুরু থেকেই এই দাবি উড়িয়ে আসছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনার দখলে চলে গিয়েছিল আকাশ, দাবি সুইজ়ারল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংস্থার।

অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনার দখলে চলে গিয়েছিল আকাশ, দাবি সুইজ়ারল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংস্থার। — প্রতীকী চিত্র।

সিঁদুর অভিযানের সময়ে আকাশের দখল পুরোপুরি চলে আসে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। আকাশে ভারতের এই নিয়ন্ত্রণের কারণেই সংঘর্ষবিরতি চাইতে বাধ্য হয় পাকিস্তান। এমনটাই দাবি করছে সুইজ়ারল্যান্ডের এক সামরিক গবেষণা সংস্থা।

গত বছরের মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। চার দিন ধরে সামরিক সংঘাতের পরে সংঘর্ষবিরতি হয় দুই দেশের। এই চার দিনের সংঘর্ষ নিয়ে একটি গবেষণা চালায় সুইজ়ারল্যান্ডের সংস্থা ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ়’। সম্প্রতি তাদের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সংস্থার দাবি, সিঁদুর অভিযান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির বায়ুসেনার ক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ্যে এনেছে। ওই অভিযানের ফলে বিমানবাহিনীর শক্তির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সেরা হয়ে উঠেছে দিল্লি এবং সেই কারণেই চার দিন সংঘর্ষের পরে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি চাইতে বাধ্য হয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বার বার দাবি করেছেন, তিনিই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ট্রাম্পের ওই দাবিকে সমর্থন করেছে ইসলামাবাদও। যদিও ভারত শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংঘর্ষবিরতিতে তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা ছিল না। সংঘর্ষের ওই দিনগুলিতে আমেরিকার সঙ্গে কথা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওই সময়ের কোনও আলোচনাতেই সংঘর্ষ বা সংঘর্ষবিরতির কথা উঠে আসেনি। তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। এ অবস্থায় সুইজ়ারল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংস্থার রিপোর্টও দাবি করল, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের সময়ে সুবিধাজনক জায়গাতেই ছিল ভারত। চাপে পড়ে পাকিস্তানই বাধ্য হয়েছে সংঘর্ষবিরতি চাইতে।

সিদুঁর অভিযান চলাকালীন ভারতের কোনও রাফাল যুদ্ধবিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। তবে সুইজ়ারল্যান্ডের সামরিক গবেষণা সংস্থার দাবি, ওই সময়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজর এ়ড়িয়ে গিয়েছিল অনেকের। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারত খুব সুচারু ভাবে পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রমণ ক্ষমতার কোমর ভেঙে দিয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ভারত এমন একটি ইতিবাচক অবস্থায় ছিল যে তারা নিজের ইচ্ছায়, নিজের শর্তে সংঘর্ষে ইতি টেনেছিল।

ঘটনাচক্রে, দেশের ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসেই এই রিপোর্টের কথা প্রকাশ্যে এল। সোমবার দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও ছিল ‘সিঁদুর’-এর ছোঁয়া। সিঁদুর অভিযানে ঠিক যে ভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছিল, যে ভাবে সেগুলি রণসজ্জায় সেজেছিল, ঠিক সে ভাবেই সাধারণতন্ত্র দিবসেও সাজানো হয় রাফাল, মিগ-সহ মোট সাতটি যুদ্ধবিমান। সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথের উপর দিয়ে ফ্লাই পাস্ট করে দু’টি রাফাল, দু’টি মিগ-২৯, দু’টি সুখোই-৩০ এবং একটি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান।

গত বছরের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হত্যালীলা চালায় জঙ্গিরা। ওই জঙ্গিহানার পরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চিহ্নিত কিছু জঙ্গিঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে ভারত। পরে দু’দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার যথেষ্ট ঝুঁকি ছিল। কিন্তু তার পরেও ভারতের সামরিক বাহিনীকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতের জন্য বিস্তর স্বাধীনতা দিয়েছিলেন দিল্লির নেতারা। ভবিষ্যতে যাতে জঙ্গিরা এমন কিছু করার সাহস না পায়, তা নিশ্চিত করতে একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক’ পদক্ষেপ চাইছিল দিল্লি।

গত বছরের ৭ মে ভোরে দুই পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-এ-মুহাম্মদ এবং লশকর-এ-ত্যায়বার বেশ কিছু ঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় বায়ুসেনা। বাহওয়ালপুর এবং মুরিদকেতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অব্যর্থ আঘাত হানে ভারত। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, এই দূরপাল্লার নিশানাগুলি ভারতের অতীতের কিছু প্রত্যাঘাতের তুলনায় গুণগত ভাবে অনেকটাই ভাল ছিল। এর পরে পাকিস্তানও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর পরে প্রথম রাতেই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রায় ৬০টি যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানি বায়ুসেনার প্রায় ৪০টি যুদ্ধবিমান বিভিন্ন সেক্টরে ছড়িয়ে ছিল। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ১০ মে আসতে আসতে আকাশের দখল প্রায় পুরোপুরি চলে এসেছিল ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে।

Operation Sindoor
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy