শুক্রবার সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব জমা পড়ছে। বিরোধীদের সই সংগ্রহের কাজ শেষ। আপাতত রাজ্যসভায় ৬৩টি এবং লোকসভায় ১৩০টি সই থাকছে প্রস্তাবের সমর্থনে, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায়অনেক বেশি।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, আগামিকাল লোকসভা অথবা রাজ্যসভার মধ্যে যে কোনও একটি কক্ষে প্রথমে নোটিসটি পেশ করা হবে। সূত্রের খবর, মোট সাতটি অভিযোগ আনা হচ্ছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে গণহারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির ক্ষেত্রে তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে দলীয় পক্ষপাত এবং বৈষম্যমূলক ভাবে দফতর চালানোর মতো অভিযোগগুলি রয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতে জ্ঞানেশ কুমার যে ‘দুর্ব্যবহার’ করেছিলেন সেই অভিযোগও থাকছে প্রস্তাবে।
তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বলছেন, এই উদ্যোগ সমস্ত বিরোধী দলের সমন্বয়ের ফলেই সম্ভব হয়েছে। ঘটনা হল, গত ১০ দিন ধরে তৃণমূল নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে। এই মুহূর্তে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে নেই আপ-এর সাংসদরা। তাঁরাও সই করেছেন এই প্রস্তাবে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘একটিও ডিজিটাল সই নেওয়া হয়নি। প্রত্যেকে নিজের হাতে সই করেছেন। বিরোধীদের প্রত্যেকেই অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই ইতিহাসের শরিক হতে চাইছেন। এর আগে দু’বার এই বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি জমা পড়েছে ১৯৯১ এবং ২০০৬ সালে। কিন্তু প্রস্তাব নোটিসের আকারে কখনও দেওয়া হয়নি।”
রাজ্যের নাগরিকদের ভোটদানের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখার দাবিতে কলকাতায় টানা পাঁচ দিন ধর্না দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে তাই গোড়া থেকেই বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়তা দেখাতে চেয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। কংগ্রেস চেয়েছিল প্রথমেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসতে, তাতে রাজি হয় তৃণমূল। কিন্তু সেই সঙ্গে এই সম্মতি আদায় করে নেয় যে অনাস্থা নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি মিটে গেলেই, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। কংগ্রেসও জানায় তারা পাশে রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের ঘরে বিরোধী দলনেতাদের বৈঠকে তৃণমূলের লোকসভার উপনেতা শতাব্দী রায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তোলেন। বলেন, চার রাজ্যে নির্বাচন কড়া নাড়ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের ভোটদানের অধিকার নিয়ে লড়াই করেছেন। সব বিরোধীদের পাশে থাকা প্রয়োজন এই লড়াইয়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অনেক বার বলা হয়েছে কিন্তু তিনি রাজ্য সরকারের একটি দাবিতেও কর্ণপাত করেননি। ফলে একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানান শতাব্দী। একমত হন কংগ্রেস এবং অন্য বিরোধী দলের নেতারা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)