Advertisement
E-Paper

আজ নিঃশর্ত মুক্তি অভিনন্দনের, শান্তির বার্তা দিয়ে ঘোষণা করলেন ইমরান

পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করলেন, শান্তির পদক্ষেপ হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের কব্জায় থাকা ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৯ ০৩:০২
অভিনন্দন বর্তমান ও ইমরান খান। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া।

অভিনন্দন বর্তমান ও ইমরান খান। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে আপাতত কূটনৈতিক বিরতি। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করলেন, শান্তির পদক্ষেপ হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের কব্জায় থাকা ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে। আজ ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে।

ভারতও কি একে শান্তির বার্তা বলে মনে করছে? এয়ার ভাইস মার্শাল বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্ত জেনিভা কনভেনশনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’’ আর ইমরানের ঘোষণার পরেই কোনও প্রেক্ষিত উল্লেখ না-করলেও শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘আপনারা (উপস্থিত বিজ্ঞানীরা) তো ল্যাবরেটরিতে জীবন কাটানো লোক। আপনাদের মধ্যে পাইলট প্রজেক্ট করার রীতি আছে। পাইলট প্রজেক্টের পরে বড় মাপে কাজটা করার পথ তৈরি হয়। সদ্য একটা পাইলট প্রজেক্ট শেষ হয়েছে। এ বার আসলটা করতে হবে। আগেরটা তো প্র্যাকটিস ছিল।’’

আজ সকাল থেকেই সাউথ ব্লক এই মর্মে সরব হয় যে কোনও শর্ত ছাড়াই নিরাপদে এবং সুস্থ শরীরে ফেরাতে হবে অভিনন্দনকে। ইসলামাবাদ যদি ভাবে যে এই নিয়ে দর কষাকষি করবে তা হলে ভুল করবে।

আরও পড়ুন: বাতিল হচ্ছে মিগ ২১, আকাশ যুদ্ধকে অন্য মাত্রা দিতে আসছে তেজস

সূত্রের মতে, এ হেন পরিস্থিতিতে ইমরান আচমকাই নিঃশর্তে ভারতীয় উইং কমান্ডারকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় প্রাথমিক ভাবে কিছুটা হকচকিয়ে যায় নয়াদিল্লি। ঘটনাচক্রে যে সময়ে ইসলামাবাদে এই ঘোষণা হয় ঠিক তখন দিল্লিতে স্থল, বায়ু এবং নৌ সেনাকর্তাদের একসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করে তোপ দাগার কথা ছিল। তার সময় বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের যথেষ্ট প্রমাণ আছে, সময়মতো প্রকাশ্যে আনা হবে, বলল ভারতীয় সেনা

বিশ্ব জুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠার সঙ্গে ইমরানের সিদ্ধান্তের সম্পর্ক আছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আজ সকালেই গোটা দিনের পূর্বাভাস দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চড়তে থাকা উত্তেজনা এ বার কমবে। আসবে যথেষ্ট আকর্ষণীয় খবর। তাঁর কথায়, ‘‘ভারত ও পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়িয়ে চলছিল। আমরা দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওদের থামানোর চেষ্টা করেছি।’’

এটা ঘটনা যে পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টায় সক্রিয় হয় আমেরিকা। ফ্রান্স এবং ব্রিটেনকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে প্রস্তাবও এনেছে জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ জঙ্গি তালিকায় আনার জন্য। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যুবরাজ (যিনি সদ্য ভারত ও পাকিস্তান ঘুরে গিয়েছেন) ফোনে কথা বলেছেন দুই রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে। ভারতে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেছেন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। আরব নেতাদের বক্তব্য, যুদ্ধ নয় সংলাপই একমাত্র পথ। বিবেচকের মত আচরণ করুক ভারত-পাকিস্তান।

আরও পড়ুন: সাহসী মায়ের জন্যই ডাকাবুকো অভিনন্দন

নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
সূত্রের বক্তব্য, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য ভারত ও পাকিস্তানের উপরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছিল। কিন্তু সেই চাপকে কৌশলগত ভাবে কাজে লাগিয়ে আজ দিনের শেষে দ্বিপাক্ষিক, ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক পিচে একটি মোক্ষম ইয়র্কার দিয়েছেন ইমরান। আজ দিনের শুরুতেই তাঁর নির্দেশে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মামুদ কুরেশি জানান, ইমরান খান নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে প্রস্তুত। শান্তি ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য।
গত কাল পাকিস্তানের কার্যনির্বাহী ডেপুটি হাইকমিশনারকে পাকিস্তানের মাটিতে জইশ ডেরা সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ (ডসিয়ের) তুলে দিয়েছিল ভারত। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, এই পদক্ষেপে একটি বিষয় স্পষ্ট। জাতীয়তাবাদের আবেগকে তুঙ্গে নিয়ে যাওয়া হলেও আন্তর্জাতিক চাপের কথা মাথায় রেখে কূটনীতির দরজাটিও খুলে রাখতে চেয়েছে ভারত।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেটা করতে গিয়ে পাকিস্তানের কথা অনুযায়ীই কি কাজ করতে হল না ভারতকে? পুলওয়ামা কাণ্ডের পর ইমরান বলেছিলেন, তাঁদের হাতে তথ্যপ্রমাণ তুলে দিলে তদন্ত করা হবে। সেই ‘তদন্তে’ অনাস্থা জানিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তখন বলেছিলেন, পাকিস্তানকে নতুন করে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে কোনও লাভ নেই। পঠানকোট এবং উরির উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, নিজেদের সমর্থনপুষ্ট জঙ্গিদের বরাবরই আড়াল করেছে ইসলামাবাদ।
আজ কুরেশি বলেন, ‘‘এইমাত্র ভারতের ডসিয়ের পেয়েছি। খতিয়ে দেখার সুযোগ পাইনি। খোলা মনে ডসিয়েরটি দেখব।’’ এর পর কিছুটা শ্লেষের সঙ্গে বলেন, ‘‘আগে আক্রমণ করে পরে ডসিয়ের না-দিয়ে ভারত এটা আরও আগে দিলে ভাল করত।’’

Abhinandan Varthaman India Pakistan Conflict Imran Khan অভিনন্দন বর্তমান
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy