Advertisement
E-Paper

১৬ নয়, অবৈধ উপায়ে ব্যবসার অভিযোগে ৬০টি দেশের উপরে তদন্তে আমেরিকা! ভারতের সঙ্গে নাম জুড়ল পাকিস্তানেরও

বুধবারই ভারত, চিন-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার রাশিয়া, পাকিস্তান-সহ মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানানো হল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১১:০২
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

অবৈধ ভাবে বাণিজ্য চালানোর অভিযোগে মোট ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানাল আমেরিকা। বুধবারই ভারত, চিন-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে এই একই কারণে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার (আমেরিকার সময় অনুসারে) সেই তালিকায় আরও বেশ কিছু দেশকে যুক্ত করে জানানো হয়, নিয়ম না-মেনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালানোর জন্য ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান, রাশিয়া, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, ইজ়রায়েলের মতো দেশের নাম। এমন কিছু দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে, যেগুলির সঙ্গে আমেরিকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক তো বটেই, কৌশলগত সম্পর্কও মজবুত।

আমেরিকার অভিযোগ, এই দেশগুলি জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে ঢুকতে দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেন, “বাধ্যতামূলক শ্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঐকমত্য তৈরি হলেও (বিভিন্ন দেশের) সরকারগুলি এই ভাবে উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারে ঢোকা রুখতে পারছে না।” তাই ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে এই দেশগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। বুধবারই হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, তদন্ত ‘অনিয়ম’ প্রমাণিত হলে দেশগুলির পণ্যের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সমবায়)-সহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছিল আমেরিকা। তাদের আতশকাচের নীচে যে মোট ৬০টি দেশ রয়েছে, তা-ও সে দিন স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আতশকাচের তলায় থাকা প্রত্যেকটি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শুল্কনীতি নিয়ে চাপে পড়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশে মার্কিন পণ্যের রফতানি বাড়াতেই এই কৌশল নিলেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ নিজেদের পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকা এই যুক্তি দিতে পারে যে, তারা বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে কোনও কিছুর উৎপাদন করে না। তাই মার্কিন পণ্য আমদানি করলে কোনও দেশের আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন হবে না।

সম্প্রতি একটি রায়ে ট্রাম্পের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের নীতি বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আমেরিকার শীর্ষ আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (আইইইপিএ) মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের উপরে যে বাড়তি শুল্ক চাপানো হয়েছিল, সেগুলি আর কার্যকর হবে না। আর ওই হারে শুল্ক আদায় করা হবে না। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরেই ট্রাম্প প্রতিটি দেশের উপর ১৫ শতাংশ ‘সাময়িক শুল্ক’ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা জানিয়েছে, ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্তপ্রক্রিয়া ওই সময়সীমার মধ্যেই শেষ করা হবে।

Donald Trump US Tariff US Pakistan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy