চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-’২৬) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) বৃদ্ধির হার কত? শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করল কেন্দ্র। নরেন্দ্র মোদী সরকার জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার যে ঊর্ধ্বমুখী এতেই মিলেছে তার প্রমাণ, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষের (২০২৫-’২৬) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেই (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে বড় ইঙ্গিত মিলেছিল। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সূচক ৭-৮.১ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে আশাবাদী ছিল ওয়াকিবহাল মহল। বাস্তবে ঠিক সেই ছবিই দেখতে পাওয়া গিয়েছে। ফলে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত অর্থ মন্ত্রক।
এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকৃত জিডিপির (রিয়েল জিজিপি) অঙ্ক ৭.৪ শতাংশ আটকে থাকবে বলে জানিয়ে দেয় কেন্দ্র। তবে শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে সেই পরিমাণ বেড়েছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত জিডিপি বেড়ে হয়েছে ৭.৬ শতাংশ। গত অর্থবর্ষের তুলনায় যা বেশি। ২০২৪-’২৫ আর্থিক বছরে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.১ শতাংশ।
শুক্রবার জিডিপির হার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই নিয়ে বিবৃতি দেয় জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর। তারা জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-’২৬) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রকৃত ডিজিপি বা স্থির মূল্য জিডিপি হয়েছে ৮৪.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে যা ছিল ৭৮.৪১ লক্ষ কোটি টাকা, অর্থাৎ দেশের আর্থিক বৃদ্ধির সূচক বেড়েছে ৭.৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
এত দিন ২০১১-১২ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে বা সেই বছরের বাজারদরের নিরিখে জিডিপির অঙ্ক কষা হত। কিন্তু তাতে সমস্যা ছিল। ২০১১-১২ সালের পরে মানুষের কেনাকাটার ধরন, জীবনযাত্রায় অনেক বদল এসেছে। সেই হিসাব ধরলে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা সমস্যার। তাই কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রক এ বার ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপি বা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হিসাব প্রকাশ করল। অর্থাৎ, ২০২২-২৩ সালের ভিত্তিতে অর্থনীতির বহর কতখানি বেড়েছে বা কমেছে, তার হিসাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষকে ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপি হিসাব করলে দেশের আর্থিক উন্নতি আরও ভাল ভাবে বোঝানো সম্ভব।