পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ভরাডুবির পরে এই প্রথম রাজ্যের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও পর্যন্ত স্থির রয়েছে বিরোধী নেতাদের একত্রে পাওয়া গেলে জুনেই নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসতে পারে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ। আলোচ্য বিষয় হবে ‘বিপক্ষের রাজনীতির আগামীর কর্মসূচি’। মমতা ও অভিষেক তাতে যোগ দেবেন। থাকবেন সনিয়া ও রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি)-র উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি (এসপি)-র শরদ পওয়ার বা সুপ্রিয়া সুলে, এনসি-র ওমর আবদুল্লার মতো নেতারা। সূত্রের খবর, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এই বৈঠকে ১৫টিরও বেশি দল উপস্থিত থাকবে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘জাতীয় স্তরে বিজেপির ঝুলিতে মোট ভোটের ৩৭% রয়েছে। ফলে বিরোধী ভোটকে একজোট করার জন্য আলোচনায় বসার সময় এসে গিয়েছে।”
তামিলনাড়ু ভোটের পরে ডিএমকে সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেস বিজয়ের টিভিকে-র হাত ধরেছে। ফলে ডিএমকে-র সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিরোধী জোটে ডিএমকে এবং টিভিকে, দুই দলকেই ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকে আনার চেষ্টা হচ্ছে। আগামী বছর পঞ্জাবের ভোটে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি মুখোমুখি লড়বে। সেই সমস্যা মেটাতে তৃণমূল উদ্যোগী হয়ে মধ্যপন্থা খোঁজার চেষ্টা করছে। এত দিন জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস মুখে বিজেপি, কংগ্রেসের থেকে সমান দূরত্বের কথা বললেও, বহু ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নীতিকে সমর্থন করেছিল। একই নীতি নিয়ে চলছিল নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল। অন্ধ্র ও ওড়িশায় দুই দলকেই বিজেপি তথা এনডিএ ক্ষমতাচ্যুত করেছে। এখন এই দুই দলকেই ‘ইন্ডিয়া’য় নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কংগ্রেস নেতৃত্বের মত।
প্রাথমিক ভাবে ৬ জুন বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে সকলের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তবে সকলের ওই দিন সময় না হলে বৈঠক অন্য দিনে হতে পারে। তা হবে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো নিরপেক্ষ জায়গায়। বৈঠকে মূল বিষয় হবে, এসআইআর, ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ভোট চুরি। এই প্রেক্ষিতে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার, অসম, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পর্যালোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের পরে মমতা ভোট চুরির অভিযোগ তোলায় রাহুল তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। তৃণমূলনেত্রী দলের নেতাদের জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ‘সার্বিক অনিয়মের’ অভিযোগ তিনি দিল্লিতে নিয়ে যেতে চান। কংগ্রেস-সহ ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চকে শামিল করার কথা বলেছিলেন তিনি। কংগ্রেস নেতারা বলছেন, জগন্মোহনও এখন এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে, ‘কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বা বাইরে রেখে কিছু করা হবে না’। বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে মমতার এই ‘বিলম্বিত বোধোদয়’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই স্বাভাবিক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর নিজের রাজ্যে ক্ষমতায় নেই তৃণমূল। তাই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য লোকসভা ভোটকে কাজে লাগানো ছাড়া তাঁর উপায় নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)