Advertisement
E-Paper

বাণিজ্যচুক্তি হলে আমেরিকার থেকে সয়াবিন তেল আমদানির খরচ কমবে কি আদৌ? ব্যাখ্যা চাইছে বণিকমহল

এখন আমেরিকা থেকে মাত্র দেড় লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টন সয়াবিন তেল আমদানি করে ভারত। এই পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের ১৬.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সঙ্গে দিতে হয় সেসও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪২

— প্রতীকী চিত্র।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েও সতর্ক ভাবেই পা ফেলতে চান এ দেশের ভোজ্য তেল এবং সয়াবিন শিল্পের কর্তারা। দেখে নিতে চান, শুল্ক ছাড়ের সব শর্ত। এখন ভারত প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে সয়াবিন তেল আমদানি করে। চুক্তির কারণে আমেরিকার পণ্যের উপরেও শুল্ক কমাবে ভারত। সে ক্ষেত্রে সুবিধা হবে ব্যবসায়ীদের। যদিও তাঁদের একাংশ মনে করছেন, শুল্ক ছাড়ে খুব বেশি সুবিধা হয়তো হবে না। কারণ, শুল্কের সঙ্গে রয়েছে সেসের বোঝাও।

সমঝোতা অনুসারে ভারতীয় পণ্যের উপরে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করছে আমেরিকা। একই ভাবে ভারতও আমেরিকা থেকে আমদানি করা পণ্যের উপরে শুল্ক ছাড় দিতে চলেছে। সেই তালিকায় রয়েছে শিল্পজাত দ্রব্য, খাবার, কৃষিজাত পণ্য, তার মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, পশুর খাবারের লাল সরঘুম, বাদাম, তাজা এবং প্রক্রিয়াজাত ফল, ওয়াইন, মদ।

এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এসইএ)। তারা জানিয়েছে, যেহেতু প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে সয়াবিন তেল আমদানি করতে হয় ভারতকে, তাই এই পদক্ষেপের ফলে অনেক সুবিধা হবে। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫৪ লক্ষ ৭০ হাজার টন সয়াবিন তেল আমদানি করেছে ভারত। মূলত ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা থেকে তা করা হয়েছে।

সেখানে এখন আমেরিকা থেকে মাত্র দেড় লক্ষ থেকে ২ লক্ষ টন সয়াবিন তেল আমদানি করে ভারত। এই পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের ১৬.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেই সঙ্গে ১০ শতাংশ অভিবাসন শুল্ক, ৫ শতাংশ কৃষি সেস এবং ১.৫ শতাংশ শিক্ষা সেস দিতে হয়।

এসইএ-র এগ্‌‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর বিভি মেহতা জানিয়েছেন, আমেরিকার সয়াবিন তেল ভারতের কাছে একটু দামি। প্রতি টনে ৩০ থেকে ৪০ ডলার বেশি দাম পড়ে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০০০ থেকে ৩৬০০ টাকা। সেই সঙ্গে যোগ হয় আমদানির খরচ। সেই কারণে শুল্ক কমলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের খুব বেশি লাভ হবে না।

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, সয়াবিন তেলের উপরে শুল্ক ছাড়ের সঙ্গে কি সেসেরও ছাড় মিলবে। মেহতা জানান, বণিকমহল এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তা যদি হয়, তা হলে আর্জেন্টিনা থেকে এখন তেল আমদানি করতে যে বিপুল জাহাজ ভাড়া দিতে হয়, তা আর লাগবে না। তবে পাম তেলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন মেহতা। আমেরিকা থেকে সয়াবিন তেল আমদানি বেড়ে গেলে নেপাল থেকে আনার ক্ষেত্রে যে সমস্যা হয়েছে, তারও সুরাহা হতে পারে।

অন্য দিকে, ড্রায়েড ডিসটিলার্স গ্রেন (ডিডিজি)-র উপর আমদানি শুল্ক কমে গেলে তার জোগান বাড়বে। পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয় এগুলি। এখন ভারত বছরে ৭৫ লক্ষ থেকে ৮০ লক্ষ টন ডিডিজি উৎপন্ন করে। চাল, ভুট্টার ছাট থেকে সেগুলি তৈরি হয়। এসইএ-র এগ্‌‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর মেহতার হুঁশিয়ারি, আমদানি শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপরে।

সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এসওপিএ)-র এগ্‌‌জিকিউটিভ ডিরেক্টর ডিএন পাঠক জানান, এখন আমেরিকা থেকে জিএমডিডিজি আমদানি করার অনুমোদন নেই ভারতের কাছে। জিনগত ভাবে পরিবর্তিত ভুট্টার ছাট থেকে মেলে এই জিএমডিডিজি। এর পুষ্টিগুণ বেশি। পাঠকের প্রশ্ন, চুক্তি কার্যকর হলে এই জিএমডিডিজি আমদানির অনুমতি মিলবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংগঠনগুলি জানিয়েছে, চুক্তির রূপরেখা প্রকাশিত হলে তবেই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে।

India-US Trade Deal Soya Bean
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy