উনিশ বছরের তরুণী ইশরাত আত্মঘাতী জঙ্গিই ছিল বলে দাবি করল ডেভিড হেডলি। মুম্বই হামলা নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার পরে বৃহস্পতিবার হেডলির মুখে ইশরাতের নাম! ২০০৪ সালে গুজরাত পুলিশের গুলিতে নিহত যে তরুণীকে ঘিরে ভুয়ো সংঘর্ষের মামলা আজও বিজেপির গলার কাঁটা।
ইশরাত সম্পর্কে হেডলির এই বক্তব্য নতুন নয়। এফবিআই এবং এনআইএ-র কাছে হেডলি ইশরাতের লস্কর-যোগের কথা বলেছে। সেই নথি বন্ধ খামে সুপ্রিম কোর্টে গত বছর পেশ করে আইবি। কারণ তার আগে ইশরাত মামলার চার্জশিটে সিবিআই সরাসরি আইবি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সিবিআইয়ের দাবি, আইবি-র যে সতর্কবার্তার ভিত্তিতে ইশরাতদের বিরুদ্ধে অপারেশন চলেছিল, সেটা ভুয়ো। তাই নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে যায় আইবি এবং হেডলির কাছ থেকে পাওয়া ইশরাতের জঙ্গি পরিচয়ের ‘প্রমাণ’ পেশ করে। আজ ভিডিও সাক্ষ্যে হেডলির বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গই ফের সামনে এল।
হেডলির দাবি উড়িয়ে ইশরাতের কাকা আজ বলেন, ‘‘সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকমই কায়দা করে ইশরাতের নাম বলিয়ে নিলেন! এটা মামলা না রিয়েলিটি শো!’’ বিরোধী দলগুলি মনে করাচ্ছে, ইশরাত জঙ্গি বলে প্রমাণ হলেও এটা প্রমাণ হয় না যে তার হত্যা ভুয়ো সংঘর্ষে হয়নি। সিবিআইও চার্জশিটে স্পষ্ট বলেছিল, ইশরাত জঙ্গি ছিল কি না, সেটা তাদের তদন্তের বিষয় নয়। তারা শুধু ভুয়ো সংঘর্ষের অংশটাই তদন্ত করছে। গুজরাত হাইকোর্ট তাদের সেটুকুই খতিয়ে দেখতে বলেছে। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলও ঘটনাটিকে ভুয়ো সংঘর্ষ বলেছিল।
জরাত পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১৫ জুন আমদাবাদের কাছে তাদের গুলিতে চার লস্কর জঙ্গি নিহত হয়। তাদেরই এক জন ইশরাত। এরা গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খুন করার ছক কষছিল। পরে অভিযোগ ওঠে, পুরো ঘটনাই সাজানো।
ইশরাত জহান
গত কাল যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য আমেরিকা থেকে ভিডিও সাক্ষ্য দিতে পারেনি ২৬/১১ মামলার রাজসাক্ষী হেডলি। আজ লস্কর এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে নিজের ‘ঘনিষ্ঠতা’র কাহিনিই শোনাচ্ছিল সে। তখনই হেডলি বলে, ‘‘লস্কর নেতা জাকিউর রহমান লকভি আমাকে একটা ব্যর্থ অভিযানের কথা বলেছিলেন।’’ এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন উজ্জ্বল নিকম। হেডলি জানায়, লস্করের এক মহিলা আত্মঘাতী বাহিনী আছে। লস্কর জঙ্গি মুজ্জামিল বাটের একটি অভিযানে ওই মহিলা বাহিনীর এক সদস্য জড়িত ছিল। সেই অভিযানই ব্যর্থ হয়।
নিকমের প্রশ্নের জবাবে হেডলি জানায়, মহিলা জঙ্গিটি ভারতীয় ছিল। পুলিশের গুলিতে সে মারা যায়। তবে ভারতের কোথায় ঘটনাটি হয়েছিল তা তার জানা নেই। এ বার তিনটি নাম বলেন নিকম। তার মধ্যে ইশরাত জহানের নামটি চিহ্নিত করে হেডলি।
হেডলির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পুরনো হিসেব মেটাতে আসরে নামে বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দলের সংখ্যালঘু মুখ শাহনওয়াজ হুসেন দাবি করেন, ‘‘ইশরাত জহানকে শহিদ বলেছিলেন সনিয়া ও রাহুল গাঁধী। তাঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’’ তিরুঅনন্তপুরমের সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহও বলেন, ‘‘কংগ্রেস ও বাম দলগুলির এ বার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’’
যদিও কংগ্রেসের বক্তব্য, ইশরাতের জঙ্গি যোগের সঙ্গে ভুয়ো সংঘর্ষের সম্পর্ক নেই। মণীশ তিওয়ারির মতে, ‘‘ভুয়ো সংঘর্ষ হয়েছিল কি না সেটাই আসল। জঙ্গি হয়ে থাকলে ইশরাতদের গ্রেফতার করে কোর্টে তোলা উচিত ছিল।’’ আর এক নেতার কথায়, ‘‘২৬/১১ মামলার সাক্ষ্যে আচমকা ইশরাত প্রসঙ্গ উঠে আসাটা একটু অস্বাভাবিক নয় কি? মোদী-অমিত শাহকে ক্লিনচিট দিতেই যেন হেডলি মুখ খুলল!’’