আর জি কর-আন্দোলনের সময়ে চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসকে নিলম্বিত করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্য হেল্থ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (এইচআরবি) শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগের উত্তীর্ণের তালিকায় তাঁর নাম থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন তুলেছেন সরকারপন্থী ও বিরোধী শিবিরের চিকিৎসকদের একাংশ।
আন্দোলনের সময়ে বর্ধমান মেডিক্যালের সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষকে প্রথমে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য রিলিজ় অর্ডার জারি হয়। পরে তাঁকে নিলম্বিত করে স্বাস্থ্য দফতর। বন্ড পোস্টিংয়ে থাকায় নিলম্বিত হওয়ার ফলে বিরূপাক্ষ তিন বছরের সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ সম্পূর্ণ করতে পারেননি। এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘সাসপেনশন প্রত্যাহার হয়নি। হয়তো ব্যক্তিগত ভাবে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণের যোগ্যতা নিয়ে উনি পরীক্ষা দিয়েছেন। বন্ড পোস্টিং শেষ না করায় নির্দিষ্ট অর্থ জমা করেছেন বলেও জানা নেই।’’
জানা যাচ্ছে, প্যাথলজি বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে ছিলেন বিরূপাক্ষ। চিকিৎসক মহলের দাবি, ইন্টার্নশিপের সময়ে এক মহিলাকে মারধর, পরে আর্থিক দুর্নীতি, হুমকি প্রথা-সহ নানা অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। আন্দোলনের সময়ে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত কমিটিও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। তারাও জানিয়েছে, পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিরূপাক্ষ এনওসি নেননি।
এইচআরবি-র সচিব প্রভাস উকিল বলেন, ‘‘পরীক্ষার্থীরা নথি জমা করার পরে টেকনিক্যাল টিম খতিয়ে দেখে ছাড়পত্র দিয়েছে। অ্যাকাডেমিক ও ইন্টারভিউ স্কোর মিলিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তীর্ণদের তালিকা স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দেখা হবে।’’ বিরূপাক্ষকে সরকার পোস্টিং দেয় কিনা, সেটাই দেখার বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। যদিও বিরূপাক্ষের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)