১৫ বছরের কর্মজীবনে এমন অভিজ্ঞতা হয়নি তাঁর। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে নর্মদা নদীতে ক্রুজ়ডুবির ঘটনায় প্রকৃতির তাণ্ডবকেই দায়ী করলেন চালক মহেশ পটেল। তিনি এই ঘটনাকে ‘প্রকৃতির কর্মকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, এতগুলি মানুষের প্রাণহানির জন্য ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন ক্রুজ়চালক।
এনডিটিভি-র কাছে মহেশ দাবি করেছেন, যে রিসর্টের তরফে এই ক্রুজ়ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছিল, সেই রিসর্টের হেল্প ডেস্কে ফোন করে তিনি সাহায্য চান। গোটা ঘটনাটি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘ক্রুজ়ে জল ঢুকতে শুরু করায় হোটেলের রিসেপশন এবং হেল্প ডেস্কে ফোন করি। তাদের বার বার বলি যে, দ্রুত নৌকা পাঠান আপনারা। আমরা বিপদে পড়েছি। তার পরই যাত্রীদের বলি, দ্রুত লাইফজ্যাকেট পরে নিন।’’ নিরাপত্তায় যে বড়সড় গাফিলতি ছিল, সেটা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন ক্রুজ়চালক।
তাঁর আরও দাবি, যাত্রীরা লাইফজ্যাকেট পরতে চান না। এই ঘটনা ঘটনার আগেও যাত্রীদের লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা নাচ-গান এবং আনন্দ করতে ব্যস্ত ছিলেন। ঝড় ওঠার পরেও নাচ-গান চলছিল। তাঁর কথায়, ‘‘বড় বড় ঢেউয়ে নৌকা টলমল করছিল। তার মধ্যেও ওঁরা নাচ-গানে ব্যস্ত ছিলেন।’’ এনডিটিভি-কে পটেল জানান, পাড় থেকে ২০০ মিটার দূরে ছিল তাঁদের ক্রুজ়। ঝড়ের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, ক্রুজ়ের মুখ পাড়ের দিকে ঘোরানো যাচ্ছিল না। ক্রুজ়ের কাচের জানলায় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল। নীচে ইঞ্জিন রুমেও জল ঢুকতে শুরু করে। তাঁর কথায়, ‘‘যখনই দেখলাম ক্রুজ়ে জলের পরিমাণ বাড়ছে, তখনই বুঝতে পেরেছিলাম বড় বিপদ আসতে চলেছে। প্রাণপণে চেষ্টা করেছিলাম ক্রুজ়টিকে পাড়ের দিকে নিয়ে যেতে। কিন্তু পারিনি প্রকৃতির তাণ্ডবে।’’
আরও পড়ুন:
-
মধ্যপ্রদেশে নর্মদায় পর্যটকদের নিয়ে ডুবে যাওয়ার আগে ক্রুজ়ের ভিতরের পরিস্থিতি কী ছিল, প্রকাশ্যে এল সেই মুহূর্ত
-
এক লাইফজ্যাকেটে আষ্টেপৃষ্ঠে, সন্তানকে বুকে আগলে মা! দেহ উদ্ধার, মধ্যপ্রদেশে নৌকাডুবিতে মৃত ন’জন, নিখোঁজ বহু
-
‘ঠিক করে খেতে, ঘুমোতে পারছি না’! ন’জনের মৃত্যুতে ক্ষমাপ্রার্থী ক্রুজ়চালক মহেশ, কী ভাবে দুর্ঘটনা বর্ণনাও দিলেন
মহেশ আরও বলেন, ‘‘ক্রুজ়ে চালক ছাড়াও দু’জন কর্মী থাকেন। কিন্তু ঘটনার দিন, এক জন কর্মী ছিলেন। যদিও আরও এক জন থাকতেন, তা হলে হয়তো কারও প্রাণহানি ঘটত না।’’ চালকের আরও দাবি, যদি সময়মতো উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানো হত হোটেল থেকে, তা হলে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না। মহেশ বলেন, ‘‘আমাকে সকলেই কাঠগড়ায় তুলছেন। কিন্তু ঈশ্বরই একমাত্র সাক্ষী। এই ঘটনায় আমার কোনও দোষ নেই। এর জন্য দায়ী প্রকৃতি। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সব যাত্রীকে নিরাপদে পাড়ে কী ভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।’’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার নর্মদার বারগী বাঁধে ৪০ জন পর্যটককে নিয়ে ডুবে যায় ক্রুজ়। শনিবার আরও দুই শিশুর দেহ উদ্ধার হয়। ফলে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। শুক্রবার আট জন মহিলা এবং এক শিশুর দেহ উদ্ধার হয়।