Advertisement
E-Paper

অসমের বাঙালিদের অভয় দিলেন জেটলি-অমিত

নিজের এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবেই শুধু নয়, অসমকে বাঁচানোর স্বার্থে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।নির্বাচনী প্রচারে জেটলি আরও আশ্বাস দিলেন— অগপ-বিজেপি জোট ক্ষমতায় এলেও বাঙালিদের ভয় নেই।

রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৬ ০৪:১০
ভোট প্রচারে অমিত শাহ। শুক্রবার গুয়াহাটিতে। ছবি: পিটিআই।

ভোট প্রচারে অমিত শাহ। শুক্রবার গুয়াহাটিতে। ছবি: পিটিআই।

নিজের এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবেই শুধু নয়, অসমকে বাঁচানোর স্বার্থে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

নির্বাচনী প্রচারে জেটলি আরও আশ্বাস দিলেন— অগপ-বিজেপি জোট ক্ষমতায় এলেও বাঙালিদের ভয় নেই। তাদের নিরাপত্তার ভার নেবে বিজেপি।

আজ উজানি অসমের শিবসাগর ও সোনারিতে জনসভা করেন অমিত। জেটলি প্রচার করেন গুয়াহাটিতে। আহোমদের পুরনো রাজধানী শিবসাগরে দাঁড়িয়ে আহোমরাজ স্যুকাফার সঙ্গে বর্তমান আহোম নেতা তরুণ গগৈয়ের তুলনা টানতে গিয়ে তথ্যগত বিভ্রান্তিও ঘটিয়ে ফেলেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘স্যুকাফা মোগলদের যুদ্ধ করে অসম থেকে তাড়িয়েছিলেন আর গগৈ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে মোগলদেরই জামাই আদরে পুষছেন।’’

ইতিহাস অবশ্য বলে, আদতে মোঙ্গল স্যুকাফার সঙ্গে মোগলদের লড়াই হয়নি। ১২৬৮ সালে স্যুকাফার মৃত্যু হয়। আর ভারতে বাবরের হাত ধরে ১৫২৬ সালে মোগল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়।

শিবসাগর বরাবর কংগ্রেস দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেখানকার চা বাগানের ভোটও কংগ্রেসের বড় ভরসা। এ দিন সোনারিতে অমিতের সভায় হাজির ছিলেন প্রায় ৪০ হাজার চা-জনগোষ্ঠীর মানুষ। অমিত বলেন, ‘‘১৫ বছরের শাসনকালে সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। স্বাধীনতার সময় দেশে চতুর্থ স্থানে থাকা রাজ্য আজ তাই তলার দিক থেকে চার নম্বরে।’’ অমিতের বক্তব্য, রাজ্যের প্রতিনিধি ১০ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাও এখানে ট্রেনের ডবল-লাইন হয়নি। রাজ্যের এক কোটি মানুষ দরিদ্রসীমার নীচে। ৪২ শতাংশ মানুষ পানীয় জল পান না। অনেকের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। প্রশাসনে ছেয়ে গিয়েছে দুর্নীতি। তিনি বলেন, ‘‘এই অবস্থা থেকে পরিবর্তন এনে রাজ্যকে উদ্ধার করতে পারেন আম জনতাই।’’

জেটলি ও শাহ দু’জনই সিএজি রিপোর্টের উল্লেখ করে দাবি করেন— লক্ষ কোটি টাকার উপরে হিসেব দিতে পারেনি রাজ্য। এখানে বেকারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ। ৯৬ শতাংশ জমিতে সেচের সুবিধা নেই। গর্ভবতীর মৃত্যুর হারে দেশের শীর্ষে অসম। মেয়েদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধেও রাজ্য উপরের সারিতে। স্বাক্ষর রাজ্যের তালিকায় অসম এখন ২৩ নম্বরে। ১৭ শতাংশ চা শ্রমিক যক্ষ্মা ও ৭০-৯০ শতাংশ চা শ্রমিক রক্তাল্পতায় ভুগছেন। ৫০ শতাংশ বাগানে নেই প্রাথমিক স্কুল। বাগানগুলি থেকে সাত বছরে ৯ হাজার ৫০০ শিশু পাচার হয়েছে। এক লক্ষ ২৫ হাজার চা শ্রমিকের জমির পাট্টা নেই। এই অনুন্নয়নের দায় কংগ্রেস ও তরুণ গগৈয়ের।

রাজনাথ সিংহ ও পীযূষ গয়ালের হাত থেকে তরুণ গগৈয়ের পুরস্কার নেওয়ার ছবিকে হোর্ডিং হিসেবে ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। শাহের দাবি, দুর্নীতিতে প্রথম হওয়ার পুরস্কার পাবেন গগৈ। রাজ্যে দরিদ্রবান্ধব সরকার গড়া, ৩ হাজার সস্তার ওষুধের দোকান খোলা, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে ব্রহ্মপুত্রে বন্যা নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেন অমিত। অন্য দিকে জেটলি বলেন, ‘‘অসমের মানুষের মনে পরিবর্তনের ইচ্ছে, কংগ্রেস বিরোধী সফল জোট গঠন এবং সর্বানন্দের টাটকা ও দৃপ্ত নেতৃত্বের কারণে বিজেপি জোটের বিরাট ব্যবধানে জয় নিশ্চিত।’’

গগৈ অসমকে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত রাজ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ও কেন্দ্রীয় সাহায্য কমানোর অভিযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে নাগাড়ে তোপ দাগছেন। জেটলি অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘কোন রাজ্য কোন খাতে কত টাকা পাবে তা কেন্দ্র বা দল নয় পরিকল্পনা কমিশন ঠিক করে দেয়।’’ তিনি জানান, ত্রয়োদশ কমিশনের আমলে রাজ্য পাঁচ বছরে মোট ৫৭ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা পেয়েছিল, সেখানে চতুর্দশ পরিকল্পনা কমিশনের আমলে তা ১৪৮ শতাংশ বেড়ে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা হবে। জেটলি জানান, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত রাজ্যগুলি বিভিন্ন প্রকল্পে ৯০ ও ১০ অনুপাতে কেন্দ্রীয় সাহায্য পায়। নিতি আয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অসম ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি সিংহভাগ প্রকল্পে ওই হারেই কেন্দ্রীয় সাহায্য পেতে থাকবে। মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন গগৈ।

অগপ-বিজেপি জোট হওয়ায় বাংলাভাষীদের ঘর হারানোর আশঙ্কা দেখা দেবে কি না সেই প্রশ্নে জেটলি বলেন, ‘‘এমন আশঙ্কা অমূলক। আমরা বাংলাভাষীদের পূর্ণ সুরক্ষা দেব। আদতে কংগ্রেসের ভ্রান্ত ও স্বার্থসিদ্ধির নীতির কারণেই রাজ্যের জনবিন্যাসে বদল এসেছে।’’

বিজেপির আমলে মূল্যবৃদ্ধি ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে জেটলি দাবি করেন, গত ১৬ মাসে এই হার সর্বনিম্ন ছিল।

এ দিন লখিমপুরের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেন, ‘‘সর্বানন্দর নামে খুনের অভিযোগ আছে। খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তি আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হননি।’’

উল্লেখ্য, গত কাল আলফা স্বাধীনও দাবি করেছে, ছাত্রনেতা সৌরভ বরার হত্যাকাণ্ডে আলফা সদস্যদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন সর্বানন্দ। অবশ্য সিবিআই তদন্তের পরে হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই সর্বানন্দসহ ছজনকে ওই অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। আলফার অভিযোগ কি সর্বানন্দের বিরুদ্ধে যেতে পারে? আশঙ্কা উড়িয়ে জেটলি বলেন, ‘‘আমি এবং যে কোনও মানুষের অবশ্যই আলফার বক্তব্য অপেক্ষা হাইকোর্টের বিচারে বেশি আস্থা রাখা উচিত।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy