১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ শেষ হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরে তা শুরু হবে। একই সঙ্গে সেই কাজ হবে লাদাখেও। ইতিমধ্যে এর প্রাথমিক কাজকর্ম চালু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ভোটার তালিকায় অস্পষ্ট এবং সাদা-কালো ছবিগুলিকে বাদ দিয়ে রঙিন ও স্পষ্ট ছবি দেওয়ার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আপাতত সেই কাজ শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিক ভাবে চললে এপ্রিল-মে নাগাদ পুরোদমে এসআইআরের কাজ চালু হয়ে যেতে পারে জম্মু ও কাশ্মীরে।
জম্মু ও কাশ্মীরে এখন ৯০ লক্ষ ভোটদাতা। লোকসভা আসন পাঁচটি। বিধানসভায় রয়েছে ৯০টি আসন। লাদাখে ভোটদাতার সংখ্যা দু’লক্ষের কাছাকাছি। সেখানে একটি লোকসভা আসন রয়েছে। বিধানসভা নেই। সূত্রের খবর, ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শেষ হয়ে গেলে দেশের অবশিষ্ট অংশে তা শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তাদের সঙ্গেই কেন্দ্রশাসিত দুই অঞ্চলে এসআইআর হবে। সাধারণত প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ দেওয়ার (স্পেশান সামারি রিভিশন বা এসএসআর) কাজ হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় জানুয়ারিতে। কিন্তু ২০২৫ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে তা হয়নি। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়েই গোটা কাজ একসঙ্গে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অনুপ্রদেশকারীও জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম সমস্যা। ভোটার তালিকায় এর প্রভাবের আশঙ্কাও করছে নির্বাচন কমিশন। অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২১ সালে জেলা উন্নয়ন পরিষদের (ডিডিসি) দু’টি আসনের নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। দেখা গিয়েছিল জয়ী দুই প্রার্থীই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা। ফলে অনেকেই বেআইনি ভাবে নথি তৈরি করিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলে থাকতে পারে। ফলে যথেষ্ট কড়াকড়ির মধ্যে দিয়ে এসআইআর হতে পারে জম্মু ও কাশ্মীরে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে আপাতত পুরসভা, পঞ্চায়েত, ব্লক উন্নয়ন পরিষদ এবং জেলা উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। সরকার কবে এই সমস্ত নির্বাচন করতে চাইছে তার উপরেও এসআইআর প্রক্রিয়া অনেকটা নির্ভর করছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)