E-Paper

‘বিজেপি ব্ল্যাকমেল করেছে’, তির ওমরের

দাবি, গেরুয়া শিবির নিজেদের স্বার্থে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৬:৫৭
ওমর আবদুল্লা।

ওমর আবদুল্লা। — ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদার দেওয়ার দাবিকে রাজনৈতিক ‘ব্ল্যাকমেল’ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের দল। আজ শ্রীনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ওমর। সেখানেই তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এবং কার্যত জোর করে জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সীমা পুনর্বিন্যাস করিয়েছিল। বিজেপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা যাতে নির্বাচনে বিশেষ সুবিধে পায়, সে জন্যই আগেভাগে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ করা হয়েছিল বলে আঙুল তুলেছেন ওমর।

ওমরের বক্তব্য, নির্বাচনী কেন্দ্রের পুনির্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে আদতে জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলেছে বিজেপি। তাঁর দাবি, গেরুয়া শিবির নিজেদের স্বার্থে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সীমানা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওমরের কথায়, “আমরা জানি কী ভাবে সীমা পুনর্বিন্যাস হয়েছিল। শুধুমাত্র বিজেপি এবং তার জোটসঙ্গীদের সুবিধার্থেই এটা করা হয়েছিল। এ বার ভবিষ্যতে কী হয় দেখা যাক।” ওমরের সংযোজন, বিজেপির এই সিদ্ধান্ত তাদের ‘আসল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীরে শেষ বারের মতো পুরোপুরি সীমা পুনর্বিন্যাস হয়েছিল। ১৯৮১ সালের জনগণনা অনুযায়ী সেই সময়ে জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির সীমানা নতুন করে আঁকা হয়েছিল। সাত বছর পরে, ২০০২ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করে। ২০২৬ পর্যন্ত যে কোনও ধরনের সীমানা পুনর্বিন্যাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে। কিন্তু ২০১৯ সালের জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইনের অধীনে ২০২০ সালে সীমা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিশন গঠন করে কেন্দ্র। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে সেই কমিশন ২০২২ সালে কাজ শেষ করে। এর পরে পাকাপাকি ভাবে ৯০টি বিধানসভা আসন নির্ধারিত হয় জম্মু-কাশ্মীরের জন্য। এর ৪৭টি কাশ্মীরের ও ৪৩টি জম্মু এলাকার আসন।

আজ ওমর দাবি করেছেন, জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙনের প্রসঙ্গও আজ টেনেছেন তিনি। কী ভাবে একনাথ শিন্দেকে বিজেপি নিজেদের দিকে টেনেছিল, তার উদাহরণও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নিজের দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে যাবতীয় গুজব আজ উড়িয়ে দিয়েছেন ওমর। তাঁর কথায়, “ন্যাশনাল কনফারেন্সে কোনও একনাথ শিন্দে নেই। আমাদের সব বিধায়ক দলের সঙ্গেই আছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP jammu kashmir

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy