প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ভাঙল দুষ্কৃতীরা। অসমের বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার ঘটনা বুধবার প্রকাশ্যে আসার পরে সরব কংগ্রেস। মূর্তি ভাঙার ঘটনায় সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তারা।
এ বিষয়ে সরকারের ‘বিরক্তিকর নীরবতা’র সমালোচনা করে অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ-এর মন্তব্য, আজকের আধুনিক ভারতের নেপথ্যে যে সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীর ভূমিকা অন্যতম মূর্তি ভাঙার ঘটনায় তাঁর ‘উত্তরাধিকারী’দের অপমান করা হল। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু অনৈতিক ভাবে গণতন্ত্রের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।" তাঁর সংযোজন, ভারত ও অসমের শক্তি নিহিত আছে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মধ্যেই। তা রক্ষা করা উচিত। সমাজমাধ্যমে অসম কংগ্রেসের দাবি, হিমন্ত ঘনিষ্ঠ বিধায়ক কৌশিক রাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর থানা এলাকার পাইলাপুল বাজার এলাকায় মূর্তি ভাঙার ঘটনার কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন শিলচরের কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেসের তরফে স্থানীয় থানায় অভিযোগও জানানো হয়। দাবি, ‘পরিকল্পিত’ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রত্যেককে গ্রেফতার করার। শিলচরের জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্যের দাবি, নির্বাচনের আগে জনগণের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। একাধিক স্থানীয় সংগঠনও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সরব। দাবি উঠছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাতে শান্তিভঙ্গ না হয় সে জন্য পুলিশ কড় নজরদারি চালাক। প্রসঙ্গত, আগামী মার্চ ও এপ্রিলে অসমে ১২৬ আসনে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে।
আরও পড়ুন:
লক্ষ্মীপুর থানা সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। যে যন্ত্র দিয়ে মূর্তি ভাঙা হয়েছিল সেই যন্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর থানার এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছন, কোনও প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও সিসিটিভিতে দুষ্কৃতীদের কর্মকাণ্ড ধরা পড়েছে।