ইস্তফা দিলেন ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ইস্তফাপত্র পাঠান বিচারপতি বর্মা। সেই ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘‘যে কারণে আমি এই ইস্তফাপত্র দিতে বাধ্য হয়েছি, তা জানিয়ে আপনার পবিত্র সচিবালয়ের ভার বৃদ্ধি করতে চাই না। তবুও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমি ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি।” ইস্তফাপত্রের একটি কপি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকেও পাঠিয়েছেন বিচারপতি বর্মা।
প্রসঙ্গত, নগদকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল বিচারপতি বর্মার। ২০২৫ সালের মার্চে, দোলের দিন দিল্লি হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি বর্মার বাসভবনের গুদামে আগুন লেগে যায়। দমকলকর্মীরা আগুন নেবাতে যাওয়ার পরে প্রথম নগদ অর্থের কথা জানা যায়। দাবি করা হয়, সেখানে আধপোড়া নোটের বান্ডিল দেখা গিয়েছে। সেই থেকে বিতর্কের সূত্রপাত। বিতর্কের আবহেই দিল্লি হাই কোর্ট থেকে ওই বিচারপতিকে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত ওই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য হাই কোর্টের তিন বিচারপতিকে নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে। গত ৩ মে ওই অনুসন্ধান কমিটি একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে।
অন্য দিকে, বিচারপতি বর্মার অপসারণ চেয়ে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ১০০ জনেরও বেশি সাংসদ। গত অগস্টে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের সংসদীয় প্যানেল গড়ে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই প্যানেলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিচারপতি বর্মা। তবে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ওই সংসদীয় কমিটি তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার আগেই বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি বর্মা।
লোকসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, বিচারপতি বর্মা ইস্তফা দেওয়ায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আর রইল না। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মাধ্যমে অপসারিত হলে বিচারপতি বর্মা পেনশন-সহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা পেতেন না। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সেই সম্ভাবনা আর রইল না।