Advertisement
E-Paper

ইয়েচুরির চাপে কেরলে সরতে হল শিল্পমন্ত্রীকে

কংগ্রেস বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বহু বার ঘটেছে। কিন্তু সিপিএমের জমানায়? তাদের সরকারও এ বার জড়িয়ে গেল স্বজনপোষণ বিতর্কে। এবং বিতর্কের জট ছাড়াতে শেষ পর্যন্ত ইস্তফার ঘোষণা করতে হল কেরলের শিল্পমন্ত্রী তথা সিপিএমের দাপুটে নেতা ই পি জয়রাজনকে। দলের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির হস্তক্ষেপেই এমন সিদ্ধান্ত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৬ ০৩:১০
ই পি জয়রাজন

ই পি জয়রাজন

কংগ্রেস বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বহু বার ঘটেছে। কিন্তু সিপিএমের জমানায়? তাদের সরকারও এ বার জড়িয়ে গেল স্বজনপোষণ বিতর্কে। এবং বিতর্কের জট ছাড়াতে শেষ পর্যন্ত ইস্তফার ঘোষণা করতে হল কেরলের শিল্পমন্ত্রী তথা সিপিএমের দাপুটে নেতা ই পি জয়রাজনকে। দলের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির হস্তক্ষেপেই এমন সিদ্ধান্ত।

কেরলে পাঁচ মাসের এলডিএফ সরকার প্রথম বড় বিতর্কে জড়িয়েছিল স্বজনপোষণের অভিযোগকে ঘিরেই। শিল্পমন্ত্রী জয়রাজন তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই আত্মীয়কে সরকারি পদে বসিয়েছিলেন বলে তাঁর দিকে আঙুল উঠেছিল। এলডিএফে বাম শরিকেরা প্রশ্ন তুলেছিল তো বটেই, সিপিএমের মধ্যেও এই ঘটনায় উষ্মা তৈরি হয়েছিল। দলের প্রবীণতম নেতা ভি এস অচ্যুতানন্দন মন্তব্য করেছিলেন, স্বজনপোষণের এমন নজির বামপন্থীদের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। এর পরে আর কংগ্রেস বা বিজেপি-র মতো দলের সঙ্গে বামেদের তফাত থাকছে কোথায়? কেরল সিপিএমে জয়রাজন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের ঘনিষ্ঠ। দলের রাজ্য নেতৃত্ব প্রথমে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কেউ যদি কোনও মন্ত্রীর আত্মীয় হন, তা হলেই তো তাঁর অযোগ্যতা প্রমাণিত হয় না! তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়রাজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই। কিন্তু বিতর্কের রেশ জাতীয় স্তরেও পৌঁছে গিয়েছে দেখে বেঁকে বসেন ইয়েচুরি।

সাধারণ সম্পাদকের ভিন্ন মতের পরেই প্রথমে জয়রাজনের এক আত্মীয়া দীপ্তি নিশাদ তাঁর নতুন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কেরল ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের (কেআইইএল) শীর্ষ পদে শিল্পমন্ত্রীর আর এক আত্মীয় পি কে সুধীর নাম্বিয়ারের নিয়োগও বাতিল ঘোষণা করা হয় সরকারি তরফে। ঘটনাচক্রে, সুধীর আবার কান্নুরের সিপিএম সাংসদ পি কে শ্রীমতির ছেলে। কেরলে দলের রাজ্য নেতৃত্বকে ইয়েচুরি বলেছিলেন, শুধু ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিলেই হবে না। সংশোধন করার পদক্ষেপও চাই। সেইমতোই শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরমে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে আলোচনার পরে জয়রাজন জানিয়ে দেন, তিনি মন্ত্রীর পদ ছেড়েই দিতে চান। দল এক কথায় তাঁর ইচ্ছা মঞ্জুর করেছে।

কেরল সিপিএমে কান্নুর জেলা বরাবরই ডাকসাইটে নেতা তুলে এনেছে। তাঁরা বিতর্কেও জড়িয়েছেন দেদার। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, দলের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালকৃষ্ণন বা খোদ জয়রাজন— সকলেই কান্নুরের ভূমিপুত্র। জয়রাজনের বিতর্কে জড়ানোও নতুন নয়। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পরে তিনি এ দিন তির্যক সুরেই মন্তব্য করেছেন, ‘‘আশা করা যায়, এ বার সকলেই খুশি!’’ আর অস্বস্তি সামাল দিতে বালকৃষ্ণন তাঁদের ‘নৈতিকতা’কেই ঢাল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জয়রাজন নিজেই পদত্যাগপত্র জমা দিতে চেয়েছেন। কংগ্রেস বা বিজেপি-তে এমনটা ভাবা যায় না। কেরলেই গত বার কংগ্রেস পরিচালিত ইউডিএফ সরকারের একের পর এক মন্ত্রী দুর্নীতি বা স্বজনপোষণের অভিযোগের মুখেও ইস্তফা দিতে চাননি। রাজ্য সম্পাদক এমন যুক্তি দিলেও অস্বস্তির দাগ রেখেই সরতে হচ্ছে জয়রাজনকে।

sitaram yechury EP jayarajan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy