×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

চিঠি ফাঁস, কীর্তির নিশানায় আরও পাঁচ

নিজস্ব সংবাদদাতা
নয়াদিল্লি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৫১
সাংবাদিকদের মুখোমুখি কীর্তি আজাদ। বুধবার। ছবি: পিটিআই।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি কীর্তি আজাদ। বুধবার। ছবি: পিটিআই।

শীতের রাজধানীতে বেমক্কা গরম। পারদ চড়ছে রাজনীতিতেও।

বছর শেষে উৎসবের দিল্লিতে রোজ নতুন নাটক। ক্রিকেট দুর্নীতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে যৌনতা — সামিল সবই। আর তাতে আজকের সংযোজন, অরুণ জেটলির বিরুদ্ধে টিম-কেজরীবালের নয়া হামলা। মাঝে কিছু দিন চুপ থাকার পরে ময়দানে বিজেপির সাসপেন্ড হওয়া সাংসদ কীর্তি আজাদও। জেটলির পাশাপাশি আজ বিসিসিআই সেক্রেটারি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, ফারুক আবদুল্লা, রাজীব শুক্ল, প্রফুল্ল পটেলের মতো পাঁচ শীর্ষ রাজনীতিকের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন তিনি।

গত কালই ডিডিসিএ কর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন কেজরীবাল। বলেছিলেন, ছেলেকে খেলানোর জন্য মাকে যৌন প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই কর্তা।
কীর্তি আজাদ আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই অভিযোগ যথার্থ বলেই জানিয়েছেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ক্রিকেটার নির্বাচনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও এনেছেন তিনি।

Advertisement

জেটলির উপর চাপ বাড়িয়ে আবার আজই দু’টি চিঠি ফাঁস করেছেন আপ-নেতা আশুতোষ। তাঁর দাবি, সেই সময় রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে জেটলি নিজের প্রভাব খাটিয়ে ডিডিসিএ নিয়ে তদন্ত বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশের তৎকালীন কমিশনার বি কে গুপ্ত ও স্পেশাল কমিশনার রঞ্জিত নারায়ণকে চিঠি লিখে তিনি এমনই ‘নির্দেশ’ দেন বলে অভিযোগ আশুতোষের।

পাশাপাশি, এসএফআইও-র রিপোর্টে জেটলির বিরুদ্ধে যে মামলার সুপারিশ রয়েছে, তা-ও আজ মনে করিয়ে দিয়েছেন কীর্তি আজাদ। সুপারিশের তিন বছর পরেও জেটলি-সহ সংস্থার অন্য কর্তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি, প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপির সাংসদ হয়েও অনুরাগ ঠাকুর কী ভাবে বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, তা নিয়েও তোপ দাগেন আজাদ। প্রাথমিক অস্বস্তি কাটিয়ে তাঁকে পাল্টা তুলোধনা করে বিজেপি সচিব সিদ্ধার্থনাথ সিংহ আজ বলেন, ‘‘ক্রিকেট মাঠে খেলতে নামলে ব্যাটিংটা ভালো করে জানতে হয়। যাতে না হিট-উইকেট হয়ে যায়।’’

সাসপেন্ড করে তা-ও কীর্তিকে দলের বাঁধনে রেখে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু লাগামছাড়া অরবিন্দ কেজরীবালকে কী ভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়েই হিমসিম খাচ্ছে দল। সিদ্ধার্থনাথ অবশ্য বলেন, ‘‘থুথু ফেলে পালিয়ে যাওয়াটাই কেজরীবালের রণনীতি। আমার পরামর্শ, নতুন বছরে তিনিও জোড়-বিজোড় পালন করুন। জোড় দিনে নরেন্দ্র মোদী আর বিজেপিকে গাল পাড়ুন আর অন্তত বিজোড়ে দিল্লির মানুষের জন্য কিছু কাজের কাজ করুন!’’

এরই মধ্যে গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের অধীনে কেজরীবাল যে কমিশন গঠন করেছেন, সেটি বৈধ নয় বলে উপরাজ্যপাল নজীব জঙ্গ রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে সরকারের অবস্থান ঠিক করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের মত চাইবেন রাজনাথ সিংহ।

Advertisement