অন্ধকার আর ঘন কুয়াশা ভেদ করে অনেকটা দূর থেকে একটা আলোর বিন্দু দেখা যাচ্ছিল। মোবাইলের টর্চের আলো জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের তাঁর অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন নয়ডার তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী যুবরাজ মেহতা। পাড়ে তখন দাঁড়িয়ে যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা এবং উদ্ধারকারী দল।
পাড় থেকে জলাশয়ের মধ্যে নামানো বড় মই। জোরালো সার্চলাইট জ্বালিয়ে জলে নামার চেষ্টা করছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক জন নেমেওছিলেন। কিন্তু উদ্ধারকারীদের বলতে শোনা যায়, জল খুব ঠান্ডা। জলাশয় খুব গভীর। তার পরই জল থেকে উঠে আসতে দেখা যায় এক উদ্ধারকারীকে। তখনও কুয়াশা ভেদ করে দূর থেকে আলোর বিন্দুটা নজরে পড়ছিল উদ্ধারকারীদের। তখনই এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আর একটু ধৈর্য ধরো। আরও গাড়ি আসছে। শান্ত থাকো।’’
যুবরাজের গাড়ি তখনও জলে ভাসছিল। গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে মোবাইলের টর্চের আলো অনবরত জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। আর চিৎকার করছিলেন, ‘‘আমাকে বাঁচাও।’’ জোরালো সার্চলাইট ফেলে যুবরাজকে ঠাহর করার চেষ্টা জারি ছিল। ৯০ মিনিট ধরে জলের উপর ভেসে থাকা গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে বাঁচানোর জন্য কাতর আর্জি জানিয়ে গিয়েছেন যুবরাজ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তার পরই গাড়িসমেত ডুবে যান যুবরাজ।
তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে এখন শোরগোল চলছে। প্রশ্ন উঠেছে উদ্ধারকাজ নিয়েও। ৯০ মনিট ধরে জলের উপর ভেসে ছিলেন যুবরাজ। তার পরেও কেন উদ্ধার করা গেল না। কোথায় গাফিলতি ছিল? তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। পাশাপাশি চলছে দায় ঠেলাঠেলির পালাও। যুবরাজের বাবা বলেন, ‘‘আমার ছেলে দুর্ঘটনায় মারা যায়নি। ও মারা গিয়েছে, কারণ ওর কাছে সময় মতো সাহায্য পৌঁছোয়নি। আমি ওর গলা শুনতে পাচ্ছিলাম। একশোরও বেশি মানুষ সেখানে ছিল। কিন্তু কেউই ওকে বাঁচাতে পারল না।’’