×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২২ জুন ২০২১ ই-পেপার

কৃষক বন্‌ধে ভাল সাড়া, রেল-রাস্তা অবরোধে রাজ্যে রাজ্যে থমকাল জনজীবন

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি ০৮ ডিসেম্বর ২০২০ ০৪:১৫
পটনায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। ছবি পিটিআই।

পটনায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। ছবি পিটিআই।

কৃষকদের দাবি দাওয়া নিয়ে বুধবার ষষ্ঠ দফার বৈঠক ঠিক হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ভারত বন্‌ধ ঘিরে যে ভাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলেছে, তাতে এক দিন আগেই কৃষকদের ফের বৈঠকে বসতে আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এ দিন সন্ধ্যা ৭টায় আন্দোলনকারী কৃষকদের আলোচনায় বসার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি।

বন্‌ধ চলাকালীন এ দিন তাঁর কাছে ফোন আসে বলে জানিয়েছেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। তিনি বলেন, ‘‘একটা ফোন এল। বলা হল, অমিত শাহ বৈঠক ডেকেছেন। ৭টার সময় ডাকা হয়েছে আমাদের।’’

বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি নিয়ে এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পাঁচ দফা বৈঠক করেছেন কৃষকরা। কিন্তু আইন সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করতে রাজি হয়নি মোদী সরকার। বরং কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আইনে সংশোধন ঘটাতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় ছিলেন কৃষকরা। সেই মতো ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছিলেন।

Advertisement

লাইভ আপডেট—

• সন্ধ্যা ৭টায় আন্দোলনকারী কৃষকদের বৈঠকে যোগ দিতে ডেকে পাঠালেন অমিত শাহ। বুধবার ষষ্ঠ দফায় আলোচনা স্থির হয়েছিল আগেই।

• দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানার টিকরিতে মৃত্যু ৩২ বছর বয়সি এক কৃষকের। বিগত কয়েক দিন ধরে সেখানে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গিয়েছে। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।

• নয়ডায় বন্‌ধের তেমন প্রভাব নেই। প্রায় সব বড় বাজারগুলিই খোলা রয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

• কৃষি আন্দোলন নিয়ে পরবর্তী কৌশল ঠিক করতে বুধবার কমপক্ষে ৫-৬টি বিরোধী দল বৈঠকে বসছে বলে জানালেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান শরদ পওয়ার। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গেও দেখা করবেন তাঁরা।

• ভারত বন্‌ধে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া বিহারে। পটনায় জায়গায় জায়গায় বন্‌ধে শামিল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং পাপু যাদবের জন অধিকার পার্টির সমর্থকরা। দোকানপাট সব বন্ধ সেখানে। টায়ার জ্বালিয়ে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ।

• ফের কৃষকের মৃত্যু টিকরি সীমানায়। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয় সেখানে। মঙ্গলবার সকলে ৩২ বছরের এক কৃষকের দেহ উদ্ধার হয়। প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বেল প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।


• কৃষি আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফের আক্রমণ রাহুল গাঁধীর। টুইটারে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ভারত বন্‌ধকে সমর্থন করছি। মোদজি, দেশের কৃষকদের কাছ থেকে চুরি করা বন্ধ করুন’।

• তেলঙ্গানায় কৃষি আইনের বিরোধিতায় পথে টিআরএস নেতা কে কবিতা, কেটি রামারাওয়ের নতৃত্ব বিক্ষোভ রাঙ্গারেড্ডিতে।

• জয়পুরে বিজেপির অফিস ঘেরাও কংগ্রেসের। ইটবৃষ্টিও করা হয় বলে অভিযোগ।

• দিল্লি এবং গাজিয়াবাদের সংযোগস্থলে ৯ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ কৃষকদের।

• অরবিন্দ কেজরীবালের বাসভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষ আপ কর্মীদের। কেজরীবালকে জোর করে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

• ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন ভারত বন্‌ধের সমর্থনে এগিয়ে এলেন। তাঁর অভিযোগ কেন্দ্রের আনা নয়া আইনে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব পড়বে।’’

• বিরোধীরা মিলে তামাশা করছে, মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিরোধীদের দ্বিচারিতা গোটা দেশের সামনে প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। এটা ভারত বন্‌ধ নয়। সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বন্‌ধের বিরোধিতাই করছেন। তাঁদের ধন্যবাদ। কৃষি আইন নিয়ে এত দুশ্চিন্তা থাকলে সংসদে আলোচনার সময় কেন হাজির ছিলেন না রাহুল গাঁধী? মিথ্যে দাবি নিয়ে খামোকা তামাশা করছে। দেশকে ভুলপথে চালিত করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সফল হবেন না ওরা।’’

• চণ্ডীগঢ়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ কংগ্রেস সমর্থকদের।

• দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানায় পূর্ণ চাক্কা জ্যাম পালনের সিদ্ধান্ত কৃষকদের।

• দিল্লিতে নিজের বাড়িতে গৃহবন্দি করা হল মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালকে। কৃষকদের সমর্থনে বন্‌ধে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর।



মঙ্গলবার সকালে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে রাস্তায় কৃষকরা। ছবি: রয়টার্স।

• আজকের বন্‌ধের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, মন্তব্য শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতের। তিনি বলেন, ‘‘এটা রাজনৈতিক বন্‌ধ নয়। এটা আমাদের আবেগ। দিল্লিতে যে সমস্ত কৃষক সংগঠন বিক্ষোভ করছে, কোনও দলের পতাকা হাতে নামেনি তারা। এই দুঃসময়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত আমাদের। ওঁদের আবেগ বোঝা উচিত। এখানে কোনও রাজনীতি নেই আর থাকাও উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী হোন বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন বলে যদি কিছু থাকে, নিজে থেকে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে যাবেন ওঁরা।’’

• গুজরাতে পথ অবরোধ আন্দোলনকারীদের। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। আমদাবাদ-বিরামগামের সংযোগস্থলে কংগ্রেস সমর্থকদের বিক্ষোভ। টায়া জ্বালিয়ে পথ অবরোধ। আটকে যানবাহন। বদোদরায় জাতীয় সড়ক অবরোধ।

• তেলঙ্গানায় বন্‌ধের সমর্থনে পথ অবরোধ পরিবহণ কর্মীদের।

• পুণে-তে মাণ্ডি খোলা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সচিন পায়গুড়ে বলেন, ‘‘আমরা কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করছি। কিন্তু বাজার খোলা না রাখলে অন্য রাজ্য থেকে যা শাক-সবজি এসেছে সব পচবে।’’

• ওড়িশার ভুবনেশ্বর স্টেশনে রেল অবরোধ বামদলগুলির। শামিল শ্রমিক এবং কৃষক সংগঠনগুলির।

• আন্দোলনকারী কৃষকদের কথা মাথায় রেখে বুধবার জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনিয়া গাঁধী।

• দিল্লিতে ওলা-উব্‌র এবং ট্যাক্সি চলবে না আজ। ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন আন্দোলনকারী কৃষকদের সমর্থনে এমন ঘোষণা করেছে। অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেসও দেশজুড়ে চাক্কা জ্যামের ঘোষণা করেছে।

• নয়ডা অভিমুখে যাত্রা করলে ডিএনডি ধরে এগোতে বলা হয়েছে। নয়ডা লিঙ্ক রোড সংলগ্ন চিলা সীমানাও বন্ধ রয়েছে।

• বন্‌ধের মধ্যে জনজীবন সচল রাখতে দিল্লিতে যান চলাচলের রুটে ব্যাপক পরিবর্তন। দিল্লি-হরিয়ানার সংযোগস্থল সিঙ্ঘু সীমানা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অউচঁদি, পিয়াউ মনিয়ারি এবং মঙ্গেশ সীমানাও। দুই দিক থেকে বন্ধ ৪৪ নম্বর জাতী সড়ক। তারপ বদলে লামপুর। সফিয়াবাদ, সাবোলি সীমানা হয়ে ঘুরে যেতে হবে। মুকারবা এবং জিটিকে রোড থেকে সমস্ত গাড়ি ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আউটার রিং রোড, জিটিকে রোড এবং ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। ঝটি

• টিকরি, ঝারোদা সীমানা। ধানসায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বদুসরাই সীমানা দিয়ে শুধুমাত্র প্রাইভেট গাড়ি এবং দু’চাকার যান চলেচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঝটিকারা সামীনা খোলা থাকছে শুধুমাত্র দু’চাকার যান চলাচলের জন্য।


দেশ জুড়ে বন্‌ধের ডাক। তবে, সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরি না করেই বন্‌ধ পালিত হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কিসান সংগঠন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত চাক্কা জ্যামও চলবে। বিজেপি-বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু বন্‌ধ চলাকালীন কোনও রাজনৈতিক দলকেই মঞ্চে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

প্রায় তিন মাস ধরে বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কৃষকরা। প্রথমে পঞ্জাবের মধ্যেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে তা এসে পৌঁছয়ে রাজধানীতে। দিল্লি-পঞ্জাব এবং দিল্লি-হরিয়ানা সীমানাতেও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকেও দলে দলে কৃষক এসে তাতে যোগ দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে জলকামান, কোনও কিছুই বাদ রাখেনি পুলিশ। দিল্লির ঠান্ডার মধ্যেও সে সব হজম করে গিয়েছেন কৃষকরা। পুলিশের মোকাবিলা করতে গিয়ে কখনও আন্দোলন হিংসাত্মক আকার ধারণ করেনি। তাই বন্‌ধ কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনও রকম অশান্তি দানা না বাঁধে, সে ব্যাপারে সচেতন তাঁরা।

আরও পড়ুন: বিরোধী ঐক্যের সূচনা, স্থায়ী হবে কি

সংখ্যার জোরে সংসদে তর্কবিতর্ক এড়িয়ে কিতর্কিত কৃষি বিল পাশ করিয়ে নেয় মোদী সরকার। তার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে, তা আইনে পরিণত হয়। কিন্তু নয়া কৃষি আইনের বিরোধিতায় গোটা দেশে অচলাবস্থা তৈরি হবে, তা বোধহয় আঁচ করতে পারেনি কেন্দ্র। তাই তিন মাস আগে পঞ্জাবে আন্দোলন মাথাচাড়া দিলেও শুরুতে আমল দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। কিন্তু সেখান থেকেই স্ফুলিঙ্গ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে মঙ্গলবার ভারত বন্‌ধ।

মূলত তিনটি আইন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন কৃষকরা। প্রথমত, সংশোধিত অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। এর আওতায় আলু, পেঁয়াজ, ডাল, দানাশস্য, তৈলবীজ প্রভৃতিকে অত্যাবশ্যক পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একমাত্র যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি দেখা না দিলে,বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি ওই সমস্ত পণ্য যত খুশি মজুত রাখতে পারে। তাতেই আপত্তি কৃষকদের। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইনকে কাজে লাগিয়ে ফুলেফেঁপে উঠবেন অম্বানি-আদানিরা। কারণ ফসল ওঠার সময় দেশের অধিকাংশ ছোট চাষি কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশির ভাগ ফসল হিমঘরে মজুত করে রাখবেন বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরা। এর ফলে বাজারে অত্যাবশ্যক পণ্যের কৃত্রিম অভাব তৈরি হবে। তখন মাত্রাছাড়া দামে মজুত করে রাখা ফসল বাজারে ছাড়বে ওই সংস্থাগুলি।

আরও পড়ুন: ধর্নায় অখিলেশ আটক, কৃষকের পাশে মায়াবতী

কৃষকদের ক্ষমতায়ন, ন্যায্য মূল্যের আশ্বাস এবং খামার পরিষেবা চুক্তির আইন, এই দ্বিতীয় আইনটি নিয়েও তীব্র আপত্তি কৃষকদের। এই আইনে বড় বড় সংস্থাগুলি চুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের যে কোনও ফসল উৎপাদন করাতে পারে বলে বলা রয়েছে। তাতে চাষিরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলা থাকলেও, তা সুনিশ্চিত করার কোনও সদুপায় বাতলানো নেই। ফসলের দাম নির্ধারণের কোনও উপায়ের কথাও উল্লেখ নেই তাতে। তৃতীয় আইনটি হল, বাজার বা মাণ্ডির বাইরেও যে কোনও ব্যবসায়ী বা কর্পোরেট সংস্থার কাছে কৃষকদের ফল বিক্রি করার অধিকার। এত দিন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা ছিল। মাণ্ডি থেকে ফল কিনতে হলে তা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন আইনে সরাসরি কৃষকের থেকে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা ফসল কিনতে পারবেন বলা হয়েছে।

কিন্তু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কথা বলা নেই বলে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, প্রথমে বেশই দাম হেঁকে তাঁদের প্রলোভিত করতে পারে বড় বড় সংস্থাগুলি। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বালাই না থাকায় ফসল কেনার ক্ষেত্রে সরকারও গড়িমসি করতে পারে। ঠিক মতো টাকা পাওয়া না গেলে মাণ্ডিতে যাওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন কৃষকরা। সে ক্ষেত্রে সমস্ত কৃষিপণ্যের একমাত্র ক্রেতা হবে বড় বড় সংস্থাগুলি। বাধ্য হয়ে তাই তাঁদের ঠিক করে দেওয়া দামেই ফসল বিক্রি করতে হবে কৃষকদের।

সরকারের তরফে এ নিয়ে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও, আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় কৃষকরা। তা নিয়ে দফায় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে কৃষকদের প্রতিনিধই দলের। কিন্তু আইন সংশোধনে রাজি হলেও, তা প্রত্যাহারে সম্মত হয়নি সরকার। তাই নিজেদের দাবিতেই অনড় কৃষকরা। এ ব্যাপারে সকলের সমর্থন পেতেই ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার এ নিয়ে ফের সরকারের সঙ্গে একদফা বৈঠক রয়েছে তাঁদের। সকলের সহযোগিতায় বন্‌ধ সফল হলে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আরও সুবিধা হবে বলে মনে করছে কৃষক সংগঠনগুলি।

Advertisement