মেঘালয়ের ‘মধুচন্দ্রিমা হত্যা’ মামলায় প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে হত্যা করানোর অভিযোগ ছিল স্ত্রী নববিবাহিতা স্ত্রী সোনমের বিরুদ্ধে। নিয়মের ফাঁক গলে সোনম সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। তাঁর মুক্তির পথ ধরেই রাজও জামিনের আবেদন করেছিলেন। অবশ্য দায়রা আদালত আজ রাজের জামিনের আর্জি খারিজ করেছে।
সোনম জামিন পাওয়ার পরে শিলং আদালতে জামিনের নথিতে সই করেছেন তাঁর বাবা। হয়েছেন ৫০ হাজার টাকার জামিনদারও। কিন্তু দাদা গোবিন্দ রঘুবংশী বলছেন, বোনের সঙ্গে পরিবার সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সূত্রের খবর, ইন্দোরের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে জামিন পাওয়ার পরে প্রধান অভিযুক্ত তথা তাঁর স্ত্রী সোনমের পরিবারে আতঙ্ক গ্রাস করেছে। জনরোষ থেকে পিঠ বাঁচানোই তাঁদের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইন্দোর থেকে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে খুন হওয়ার এই ঘটনা ঘিরে গত বছর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সোনম জামিন পাওয়ায় ক্ষোভে ফুটছে ইন্দোর। রাজার পরিবার মেঘালয় পুলিশের গাফিলতিতে ক্ষিপ্ত। তাঁরা হাই কোর্টে যাবেন বলে জানিয়েছেন। জনরোষের ভয়ে আছে সোনম ও রাজের পরিবার। হত্যাকাণ্ডে বোনের যোগ প্রকাশ পেতেই সোনমের দাদা গোবিন্দ রাজার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছিলেন, ‘সোনমের পাশে থাকবে না পরিবার। বোনের ফাঁসি হওয়া উচিত।’ সোনমের জামিনের পরে গোবিন্দ বলেছেন, ‘‘পরিবার বোনের পক্ষে মামলা লড়ার জন্য কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেনি।’’ সোনমের জামিনের খবর তিনি সংবাদমাধ্যম থেকেই জানতে পেরেছেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে সোনমের বাবা দেবী সিংহ রঘুবংশীকে শিলংয়ে জামিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েকে নিয়ে তিনি শহরেই একটি তারকাখচিত হোটেলে উঠেছেন, কারণ জামিনের শর্তানুযায়ী সোনমরা আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না ও নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে। গোবিন্দ সাংবাদিকদের বলেন, “পরিবার সোনমের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাঁকে আর বাড়িতে ফেরানো হবে না।” রাজার পরিবার অবশ্য সোনমের পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। রাজার দাদা বিপিনের দাবি, সোনম ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন। তাঁর অভিযোগ, সোনমের পরিবার মিথ্যাবাদী ও বিশ্বাসঘাতক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)