অর্শের অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। বিশ্রাম নিতে কয়েক দিনের জন্য ছুটির আবেদন করেছিলেন ঊর্ধ্বতনের কাছে। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। ঊর্ধ্বতনের আচরণে হতাশ হয়ে এবং অসুস্থতার প্রমাণ দিতে শেষে নিজের পোশাক খুলে অস্ত্রোপচার হওয়া ক্ষতের জায়গাটি দেখালেন ট্রেনের লোকো পাইলট।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের লখনউ ডিভিশনের। লোকো পাইলটের নাম রাজেশ মীনা। তাঁর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অর্শের অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। বার বার আবেদন করার পরেও মীনার সেই আবেদন চিফ ক্রু কন্ট্রোলার রতন কুমার মঞ্জুর করেননি বলে অভিযোগ। শেষে ওষুধপত্র, ব্যান্ডেজ, প্রেসক্রিপশন, মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে কন্ট্রোলার অফিসে সটান হাজির হন মীনা। তাঁর টেবিলে ওষুধ, প্রেসক্রিপশন, মেডিক্যাল রিপোর্ট রেখে তাঁর অসুস্থতার প্রমাণ দেন। কেন ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন, তা-ও জানান কন্ট্রোলারকে।
অভিযোগ, এত কিছুর পরেও নির্বিকার ছিলেন কন্ট্রোলার রতন কুমার। ছুটির আবেদনও মঞ্জুর করতে চাননি। তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে রতনকে উদ্দেশ করে মীনাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আপনি যদি চান, তা হলে অস্ত্রোপচারের জায়গা দেখাতে পারি।’’ এর পরই তিনি নিম্নাঙ্গের পোশাক খুলে কন্ট্রোলারকে তা দেখান। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অর্শের সমস্যায় ভুগছিলেন মীনা। মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে চিকিৎসাও করান। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। শেষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি লখনউয়ে অস্ত্রোপচার করান মীনা। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক কয়েকটা দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন আধিকারিককে চিকিৎসকের পরামর্শের বিষয়টি জানিয়ে আরও কয়েকটা দিন ছুটি বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ, তা মঞ্জুর করা হয়নি। মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেও তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি বলে মীনার দাবি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, চিফ কন্ট্রোলার তাঁর ছুটির আবেদন মঞ্জুর না করায় শেষে শ্রমিক সংগঠনের নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ওই ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার পরই মীনার ছুটি মঞ্জুর হয়। এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন লখনউ ডিভিশনের রেলকর্মীরা। তাঁরা কন্ট্রোলারের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তোলেন। ইন্ডিয়ান লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক কে সি জেমস বলেন, ‘‘এটা খুব লজ্জার যে, অসুস্থতা প্রমাণ করতে এক জন কর্মীকে তাঁর ঊর্ধ্বতনকে পোশাক খুলে অস্ত্রোপচারের জায়গা দেখাতে হচ্ছে।’’