প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীও ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তাঁর মানভঞ্জন করতে দামী উপহার কিনেছিলেন। কিন্তু সে জন্য টাকা জোগাড় করেন প্রিয় বন্ধুকে খুন করে! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তের নাম শফি। কর্নাটকের চিক্কামাগালুরু জেলার বিরুর বাসিন্দা ওই যুবক পেশায় ঢালাইমিস্ত্রি। বন্ধু পুত্তরাজুকে টোপ দিয়ে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। প্রমাণ লোপাট করতে বন্ধুকে খুন করে দেহ ফেলে দিয়েছিলেন নির্জন স্থানে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি অর্থলগ্নি সংস্থার সোনার নিলামে যাবেন বলে বন্ধুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন শফি। পুত্তরাজুকে বলেছিলেন, সঙ্গে টকাপয়সা আনতে। সেই মতো বন্ধু আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে হাজির হন। এর পর তাঁকে নিয়ে বাইকে করে একটি নির্জন জায়গায় চলে যান শফি। মাঝরাস্তায় বাইক দাঁড় করিয়ে বন্ধুকে আচমকা ছুরি দিয়ে আঘাত করেন ওই যুবক। কুপিয়ে খুনের সেখানেই পুত্তরাজুর দেহ ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান শফি। তার আগে সেই আড়াই লক্ষ টাকাও নিয়ে নেন।
আরও পড়ুন:
পরের দিন সকালে এক দুধ বিক্রেতা রাস্তায় দেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। সপ্তাহ দুই তদন্তের পর খুনিকে চিহ্নিত করে পুলিশ। গ্রেফতারির পর খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্ত। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বন্ধুর আড়াই লক্ষ টাকা দিয়ে নানা জিনিসপত্র কিনেছেন অভিযুক্ত। সবটাই নাকি ছেড়ে চলে যাওয়া দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য বলে দাবি করেছেন ধৃত। ৬০ হাজার টাকা খরচ করে স্ত্রীকে একটি টিভি কিনে দিয়েছিলেন। সেটি পেয়েছে পুলিশ। আরও কী কী কিনেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মৃতের পরিবার জানিয়েছে, পুত্তরাজি এবং শফি দীর্ঘ দিনের বন্ধু। টাকার জন্য বন্ধুকে খুন করে ফেলবেন, এমনটা কেউ ভাবতেই পারেননি। ধৃতের কড়া শাস্তি চেয়েছেন তাঁরা।