ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটি (এনএইচএ)-র সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা।
২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদল হওয়ার পরে নতুন সরকার ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গেও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। বস্তুত, পূর্বতন রাজ্য সরকারের জমানায় রাজ্যবাসী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের যে ৬ কোটি মানুষ মমতার সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন করেও আবেদন করা যাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার জন্য।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের জমানায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখনই পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, আয়ুষ্মান ভারত-সহ কেন্দ্রের বেশ কিছু প্রকল্পের সুবিধা থেকে রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এ অবস্থায় রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে এ রাজ্যকে জোড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত ২৩ মে নবান্নে থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, শুধু বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ যে সুবিধা অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ পায়নি বলেও পূর্বতন সরকারকে নিশানা করেন তিনি। এ বার স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে সেই সুবিধা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। দেশের ৩৬তম রাজ্য হিসাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় যুক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক বিবৃতিতে এই আশু পদক্ষেপকে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে ব্যখ্যা করেছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত বাস্তবায়নের ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তা স্বাস্থ্যখাতে আর্থিক সুরক্ষা পাবেন।